বড় কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে নতুন উদ্যোগ

আলী রিয়াজ

প্রায় তিন বছর ধরে আইপিও নেই শেয়ারবাজারে। সেই আইপিও খরা কাটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে সহজে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বার্ষিক ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি টার্নওভার রয়েছে-এমন কোম্পানিগুলো সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন করতে পারবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই শেয়ারবাজারে কেটে যাবে আইপিও খরা।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের পর শেয়ারবাজারে কোনো আইপিও আসেনি। বর্তমান কমিশন গঠন হওয়ার পর বাজারে আইপিও বিধিমালা নতুন করে তৈরি করার কাজ শুরু করে। গত মাসে আইপিও খসড়া বিধিমালা জারি করা হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে এই বিধিমালায়। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন অন্তত ১০-২০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে কোনো কোম্পানি আইপিও ছাড়াই স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। প্রস্তাবিত বিধিমালার আওতায় সরকারের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। একই সঙ্গে কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন হলে সেই কোম্পানিও এ সুযোগ পাবে। এ ছাড়া বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানিও ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের বা সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন অনুমোদিত কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন রয়েছে এমন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো অথবা উৎপাদনকারী কোম্পানিও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। কমপক্ষে তিন বছর কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি এবং কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদসম্পন্ন কোম্পানিও এ সুযোগ পাবে। এই বিধিমালা চলতি মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত বিধিমালা জারি হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বাজারে নতুন আইপিও আসছে। আইপিও বিধিমালার বাইরে আর্থিক ডেরিভেটিভস পণ্য লেনদেন শুরু হচ্ছে শেয়ারবাজারে। এ লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের দাখিল করা কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে বিএসইসি। কর্মপরিকল্পনায় নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ, ব্যবস্থা উন্নয়ন ও অবকাঠামো তৈরি, লেনদেন নিষ্পত্তি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডিএসইর এ কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা কমিশন পর্যবেক্ষণ করবে। প্রাথমিক ডেরিভেটিভস পণ্য হিসেবে সূচকভিত্তিক ফিউচার দিয়ে লেনদেন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আর্থিক ডেরিভেটিভস পণ্যের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হবে বলে আশা করছে কমিশন।

বাজারের সম্প্রসারণ ও নতুন আইপিও নিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, শেয়ারবাজারের আকার বাড়াতে বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা জরুরি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শেয়ারবাজারে ভালো ও নতুন কোম্পানি আনতে দ্রুত সরাসরি তালিকাভুক্তির সুবিধা চালু করা হবে। এ সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সরাসরি তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলো আবেদন করতে পারবে। সেখান থেকে ভালো মানের কোম্পানিগুলোকে এ ব্যবস্থায় দ্রুত তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হবে। শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে এই উদ্যোগের কথা ভাবছে বর্তমান কমিশন। বাংলাদেশে শেয়ারবাজারে কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী মানি মার্কেট বা অর্থায়ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। এতে একদিকে শেয়ারবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আসে না, অন্যদিকে ব্যবসার টেকসই সম্প্রসারণও বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা দ্রুত শেয়ারবাজারে বৃহৎ মূলধনি কোম্পানি শেয়ারবাজারে নিয়ে আসব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights