বসুন্ধরা কিংস চ্যাম্পিয়ন

অনলাইন ডেস্ক

কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আগ্নেয়গিরির তপ্ত শ্বাস বইয়ে ইতিহাস গড়ল বসুন্ধরা কিংস। গ্যালারিতে হাজারো সমর্থকের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে রাজমুকুট পুনরুদ্ধার করল কিংসরা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো লিগ শিরোপা জিতেছেন দরিয়েলতন-ফাহিমরা।

তবে ম্যাচ হয়েছে রুদ্ধশ্বাস। ঠিক যখন মনে হচ্ছিল আজ কিংসের উৎসব বুঝি মাটি হতে চলেছে, তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বক্সের ভেতর ফাহিমকে যখন আবাহনীর দুই ডিফেন্ডার মাটিতে আছড়ে ফেললেন, রেফারির বাঁশি বেজে উঠল বজ্রধ্বনির মতো। পেনাল্টি! পুরো স্টেডিয়াম তখন নিথর। স্পটকিক নিতে এগিয়ে এলেন গোলমেশিন দরিয়েলতন। তার ডান পায়ের নিখুঁত শট যখন আবাহনীর গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালের বাঁ দিকে আছড়ে পড়ল, কুমিল্লার আকাশ-বাতাস যেন ফেটে পড়ল বাঁধভাঙা উল্লাসে।

সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় কিংসের দ্বিতীয় দফার তান্ডব। ঠিক তিন মিনিট পর, ৭৮ মিনিটে আবাহনীর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সোহেল রানা। বক্সের ভেতর থেকে তার নেওয়া সেই বুলেটগতির শটটি যখন প্রতিপক্ষের জালে জড়াল, তখন পুরো বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ইতিহাসই যেন নতুন করে লেখা হয়ে গেল। ২-০ গোলের লিড নিয়ে বসুন্ধরা কিংস বুঝিয়ে দিল, কেন তারা এই বাংলার অঘোষিত সম্রাট।

শেষ দিকে আবাহনীর এমেকা ওগবুগ মাঝমাঠ থেকে বিশ্বাস্য গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু ভাগ্যদেবতা আজ তাদের সহায় ছিলেন না। তার সেই দূরপাল্লার শট বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে আবাহনী শিবিরের স্বপ্ন ছাই হয়ে যায়। যোগ করা সময়ে সুলেমান দিয়াবাতের শেষ চেষ্টাও যখন গোলরক্ষক শ্রাবণের তালুবন্দি হলো, তখনই বেজে ওঠে রেফারির সেই বহুকাঙ্ক্ষিত শেষ বাঁশি।

ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ১৭ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা নিশ্চিত করল বসুন্ধরা কিংস। হারিয়ে যাওয়া মুকুট ফিরে পাওয়ার আনন্দ আর টানা আধিপত্যের গৌরব নিয়ে এক ঐতিহাসিক উদযাপনে মাতল কিংসরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights