বসুন্ধরা সিটিতে জমজমাট ঈদবাজার
সাইফ ইমন
ঈদুল ফিতর যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে রাজধানীর জনপ্রিয় বিপণিবিতান বসুন্ধরা সিটিতে। ঢাকার আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকেও অনেকে আসছেন এখানে কেনাকাটা করতে। বসুন্ধরা সিটির প্রায় প্রতিটি পোশাকের দোকানে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায় গতকাল। ঈদ ঘনিয়ে আসায় ক্রেতাদের চাহিদার কারণে অন্যান্য বিপণিবিতানের সঙ্গে বসুন্ধরা সিটিও এখন মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে।
দেশের বড় সব ধরনের ব্র্যান্ডের শাখা রয়েছে এখানে। ক্যাটসআই, রিচম্যান, বাটা, জেন্টল পার্ক, দেশি দশ, সারা, জারা, প্লাস পয়েন্ট, দর্জিবাড়ি, ইনফিনিটি ইত্যাদি আউটলেটগুলোতে দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুরুতে মেয়েদের পোশাকের দোকানগুলোতে বেশি ভিড় ছিল। তবে এখন ছেলে মেয়ে শিশুদের কলকাকলীতে গমগম করছে এই শপিং মলটি। শার্ট, টি-শার্টের দোকানগুলোতেও অনেক ভিড় দেখা গেছে। ইনফিনিটির বিক্রয় কর্মী রুবেল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমাদের এখানে সব নতুন পোশাক। ঈদ উপলক্ষে নতুন ডিজাইনের সব পোশাক কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। দুবাই প্রবাসী শেখ আহসানুল্লাহ বলেন, আমি কিছুদিন আগেই দেশে ফিরেছি এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করব। আজ অনেক কিছু কেনা হয়েছে। মা-বাবা, ভাই-বোন, ভাগনি-ভাগনে-ভাতিজা সবার জন্যই পোশাক কিনেছি। জেন্টেল পার্কের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আল-আমিন খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে। গতবারের চেয়ে এবার বেচাবিক্রি বেশি হচ্ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় এখন শুধু বন্ধের দিন নয় বরং প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা।
আফতাবনগর থেকে পরিবার নিয়ে বসুন্ধরায় এসেছেন ইমি রহমান। লেভেল ৬ এ কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ইফতার করতে ফুডকোটে যাচ্ছি। গতকাল থেকে শপিং শুরু করেছি। গতকালও এসেছিলাম আজও এসেছি পরিবারের সবার জন্য শপিং করতে। সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। ইফতার শেষে আবারও শপিং শুরু করব। এখানে এক ছাদের নিচে সব ব্র্যান্ডের পোশাক পাওয়া যায়। আবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে আসা যায় স্বাচ্ছন্দ্যে।
গতকাল অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কথা পর্যন্ত বলতে পারেননি ক্রেতা সামলানোর ব্যস্ততার কারণে। তবে মোবাইল ফোন সেটের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে। ঈদে প্রিয়জনদের নতুন মোবাইল উপহার দিতেই ক্রেতার এমন সমাগম।
২২ হাজার ৫০০ স্কয়ার ফিটের এপেক্সের বিশাল জুতার শোরুমে বিক্রয়কর্মী রাব্বি বলেন, জুতা ভালো না হলে পায়ের গঠন কিংবা শরীরের ভারসাম্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আমাদের এখানে জুতা শুধু রং বা নকশা নয়, বরং আরাম, সঠিক মাপ ও ব্যবহারিক দিকগুলোর ওপরে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হয়। তাই আমাদের এখানে ক্রেতা সমাগমও অনেক বেশি।
