বসুন্ধরায় ‘জেডএফসি ২’-এর রোমাঞ্চকর রাত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারিনায় শুক্রবার ঘাম, রক্ত আর বারুদে লেখা হলো এক নতুন রূপকথা। রিংয়ের রশি ছুঁয়ে ওঠা গ্লাভসের গর্জন আর উন্মাদনার পরাকাষ্ঠা সাক্ষী রেখে শেষ হলো ‘জেডএফসি ২ : প্রাইড অব বাংলাদেশ’।
তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) অনন্য আয়োজনে বিশ্বমঞ্চের আলো এসে পড়েছিল ঢাকার বুকে-সাতটি দেশের যোদ্ধারা রিংয়ের ক্যানভাসকে বানিয়েছিলেন নিজেদের শক্তি ও সাহসের যুদ্ধক্ষেত্র। শুক্রবার রাতের আলো জ্বলতেই অ্যারিনাজুড়ে সুর বাঁধল কমব্যাট স্পোর্টসের। ১০টি বাউটের প্রতিটি সেকেন্ড ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। রিংয়ের রক্তচক্ষু লড়াইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও মালয়েশিয়ার ফাইটাররা প্রদর্শন করলেন তাদের সর্বোচ্চ নৈপুণ্য।
দিনের সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চ জমা ছিল দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘বেয়ার-নাকেল বক্সিং’ বাউটে। খালি হাতে কোনো গ্লাভস ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ যোদ্ধা উইল চপ এবং ইরানের মোস্তফা আশুরির মুখোমুখি লড়াইয়ের ৩টি রাউন্ডে তৈরি হয় চাবুকের মতো গতি আর থমথমে উত্তেজনা। গ্লাভস ছাড়া মুষ্টির কঠিন লড়াইয়ে থমকে গিয়েছিল গ্যালারির পুরো চিৎকার।
রাতের প্রধান আকর্ষণ ‘মেইন ইভেন্ট’-এ ডব্লিউএমও এশিয়া মুয়াই থাই শিরোপার জন্য ৫ রাউন্ডের মহাযুদ্ধে নামে বাংলাদেশের মসজিদুল রেজা ওমিও এবং থাইল্যান্ডের থানাপাত থিতাম। ৩ মিনিটের প্রতিটি রাউন্ড আর ২ মিনিটের মধ্যবর্তী বিরতিতে ছিল কৌশলের খেলা। অন্যদিকে ‘কো-মেইন ইভেন্ট’-এ জেডএফসি বক্সিং শিরোপার ৬ রাউন্ডের মহারণে সুর কৃষ্ণ চাকমার প্রতিটি পাঞ্চে গর্জে ওঠে ইন্দোনেশিয়ার কুন্দিমাংয়ের বিরুদ্ধে গ্যালারি।
জেডএফসি মুয়াই থাই শিরোপায় বাংলাদেশের মুহাম্মদ রশিদের শক্ত প্রতিপক্ষ ছিলেন মালয়েশিয়ার এরওয়ান্ডি কালাই। আর সিঙ্গাপুরের শন রাফায়েল সানির বিরুদ্ধে জেডএফসি বক্সিং শিরোপায় লাল-সবুজের স্বপ্ন বয়েছেন সিরাজুল রাব্বি। নারীদের রিং লড়াইও উপহার দিয়েছে চোখধাঁধানো মুহূর্ত।
পেশাদার বক্সিংয়ে সানজিদা জান্নাত লড়াই করেন মালয়েশিয়ার মেরেডি মাইকেলের বিরুদ্ধে, আর সেমি-প্রো মুয়াই থাইয়ে গাজী আরনাজ ও শম্পা ইসলামের দ্বৈরথ দিয়ে সূচনা হয়েছিল রোমাঞ্চের। প্রো-এমএমএ-তে মঞ্জুর আলম ও ইন্দোনেশিয়ার ফিলিপাস রাঙ্গা এবং অন্যান্য পেশাদার বক্সিংয়ে রাকিব হোসেন ও গনাদান চাকমার লড়াইগুলো ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদ্স্পন্দন বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ
