বাংলাদেশিদের সম্মান জানাতে বাঙলা পাড়ায় রাজা তৃতীয় চার্লস
আ স ম মাসুম, যুক্তরাজ্য
১৯৭৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল। মাঝখানে ৪৫ বছরের সংগ্রাম, অভিযাত্রার গল্প। ৪৫ বছর আগে যেখানে রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছিলো ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের বঞ্চণার ইতিহাস, সেই একই জায়গায় আজ (৮ ফেব্রুয়ারী) বুধবার ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের প্রতি সম্মান জানাতে উপস্থিত হন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। সাথে ছিলেন রাণী ক্যামিলা।
এ এক ঐতিহাসিক ঘটনা, ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকার মতো একটি দিন। এই গৌরবের কাজটি করেছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি দম্পতি কাউন্সিলার আবদাল উল্লাহ ও আয়েশা কুরাইশি ওবিই। তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার এন্ড ইন্সপায়ারেশন বিবিপিআই’এর দাওয়াতে আসেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা।
তাদের আগমন উপলক্ষে এক সপ্তাহজুড়ে ছিলো নানা প্রস্তুতি। বুধবার সকাল ১১টায় রাজা আসেন আলতাব আলী পার্কে। তার আগে সকাল ৯.৪৫ মিনিটে সকল আমন্ত্রিত অতিথি মাঠে প্রবেশ করেন। রাজা তৃতীয় চার্লসকে আমন্ত্রণ জানান টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার শাফি আহমদ। এসময় আরো ছিলেন নির্বাহী মেয়র লুতফর রহমান, আবদাল উল্লাহ ও আয়েশা কুরাইশী।
এরপর আয়েশা কুরাইশী ও আবদাল উল্লাহ রাজা ও রানিকে নিয়ে হেটে যান শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে। এসময় টাওয়ার হ্যামলেটসের স্কুল শিক্ষার্থীরা পার্কের রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানায়। শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাংবাদিক ও লেখক নবাব উদ্দিন ও উপস্থাপিকা ও আবৃত্তিশিল্পী উর্মী মাজহার। এরা দুজনেই শহীদ মিনার ও ভাষা আন্দোলন এবং ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের উত্থানের গল্প বলেন। সেখান থেকে রাজা ও রানিকে নিয়ে আবদাল উল্লাহ ও আয়েশা কুরাইশী ওবিই যান শহীদ মিনারের বেদীর কাছে। সেখানে রাজনীতিবিদ হেলাল আব্বাস, সাংবাদিক আনসার আহমেদ উল্লাহসহ ১৯৭৮ সালের আন্দোলনকারীরা ১৯৭৮ সালের বর্ণবাদ হামলা ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেন।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, চ্যানেল এস টেলিভিশনের সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার ড. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি মিডিয়ার উত্থান ও গৌরবের কথা বলেন। এরপরই শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে একটি গাছের চারা রোপন করেন রাজা।
মাঠের ভেতরে ১৫০ জন আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। এর বাইরে রাস্তা ও পার্কের দুপাশে ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। পার্ক থেকে গাড়িতে করে রাজা, রানি, আবদাল উল্লাহ ও আয়েশা কুরাইশী ওবিই একসাথে যান ব্রিকলেনের মুখে বাংলা টাউন গেটের সামনে। সেখানে তাদেরকে স্বাগত জানান ব্রিটেনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রধান সাঈদা মুনা তাসনিম। এসময় চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ আলী তার মাটির টানে ম্যুরাল দেখান রাজা ও রানিকে। এরপর রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা শতশত মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে করতে রাজা, রানি, আবদাল উল্লাহ, আয়েশা কুরাইশী হাটতে থাকেন ব্রিকলেনের ভেতরে। ব্রিকলেনের ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলা রেষ্টুরেন্টে গিয়ে সেলিব্রেটি শেফ আতিকের হাতে বানানো পিঠা খান রাজা। সেখান থেকে রাজা ও রানি সরাসরি ঢুকে যান ব্রিকলেন মসজিদে। ব্রিকলেন মসজিদ কমিটি ছাড়াও ব্রিকলেনের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় মসজিদের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন রাজা ও রানি। মসজিদের ভেতরে ব্রিকলেন ফিউনারেলের কার্যক্রম দেখেন রাজা, পরে কোভিডের সময় তাদের অসামান্য সাপোর্ট ও কার্যক্রমের প্রসংশা করেন তিনি। প্রায় ১২টা ১০ মিনিটে রাজা ও রানি বিদায় নেন বাংলা পাড়া থেকে।
