বাঙালি সংস্কৃতির নবযাত্রা

কামরুজ্জামান গোপন

‘একাকী গায়কের নহে তো গান, মিলিত হবে দুইজনে;/গাহিবে একজন খুলিয়া গলা, আরেকজন গাবে মনে।’ রবীন্দ্রনাথের ‘গানভঙ্গ’ কবিতার পঙ্ক্তি দিয়েই শুরু করি। কালজয়ী রবীন্দ্রসংগীতের ভিতর ডুব দিলে নিজেকে যেমন আবিষ্কার করা যায়, ঠিক তেমনি নিজেকে খোঁজার মধ্য দিয়ে সংগীতের স্পেসে প্রকাশিত মনের মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। তিনিই হয়ে ওঠেন জীবনের অমীয় প্রেরণা আর আপন মানুষকে গড়ে নেওয়ার তীব্র বাসনা। ‘অন্তরতম বিকশিত কর-দুই আত্মার দুই উচ্চারণ তোমার অন্তর হে’। তাই রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন-‘যে সকল কবির রচনার ভিতর দিয়ে একটি জাতি; সমগ্র দেশ, একটি যুগ-নিজের হৃদয়কে, নিজের অভিজ্ঞতাকে ব্যক্ত করে তাকে মানবের চিরন্তন সামগ্রী করে তোলেন, তারা হলো মহাকবি। আর কালে কালে একটি সমগ্র জাতি যে কাব্যকে একজন কবির কবিত্ব ভিত্তি করে রচনার সামগ্রী করে তুলেছে, তাকে মহাকাব্য বলা যায়।’ আর সে কারণেই রবীন্দ্রনাথের গান মানুষের অপার বিশ্বাসকে উন্মোচিত করে। বাঙলা সংগীতজগতে রবীন্দ্রনাথ যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন তা একই সঙ্গে কালের এবং মহকালের। তাই আবু সাঈদ আইয়ুবের মতের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বলতে হয়-রবীন্দ্রনাথকে ভেঙে ভেঙে এগুতে হয় জীবনের চরম নিষ্পত্তিতে। আজ পঁচিশে বৈশাখ এই রবীন্দ্রনাথের ভিতর আমাদের বাঙালির জাতিসত্তা আর সংস্কৃতির নবযাত্রায় আমাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাই।

রবীন্দ্রনাথের কাব্যশিল্প অর্থাৎ তাঁর কবিতা ও সংগীত আমাদের সামনে চিরকালীনবোধকে জাগিয়ে দেয় এবং এক বিভাম্বিত অলৌকিকের দরজা খুলে দেয়। কবির অশীতিবর্ষব্যাপী জীবনের শিল্পসাধনা বাঙালি জাতিকে শিল্পসম্ভোগে দীক্ষিত করে। তিনি সব্যসাচী শিল্পসাধক। তাই দেখা যায়, এই ক্রান্তীয় বিষুবীয় বঙ্গবদ্বীপে রবিই ঋতুর স্রষ্টা নিসর্গের নৈমিত্তিক রূপান্তর আবর্তন উদ্ভাসন, উজ্জীবন। রবি/সূর্যের বার্ষিক গতির কারণেই ঋতুকাব্য রচিত হয়। রচিত হয় বহুবিচিত্র বৃক্ষ পুরাণ, বিহঙ্গ পুরাণ, পুষ্প পুরাণ, প্রকৃতি পুরাণ। ঋতুরঙে আক্রান্ত, প্রভাবিত হয় মানুষ। মানুষের দেহ মনে বহু বর্ণিল ও বিচিত্র অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে মনন ও চিত্তের রূপ রূপান্তর ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিসর্গের নিরন্তর পাঠক। প্রকৃতিকে এত সূক্ষ্ম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ, অনুধাবন, অনুভব, উপলব্ধি করতে আর কাউকে দেখা যায়নি। প্রকৃতি বীক্ষণে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কালিদাসের অনেকটা মিল থাকলেও রবীন্দ্রনাথে স্বতন্ত্র যথেষ্ট। কালিদাসে বর্ষা ও বসন্ত যেভাবে প্রাধান্য পেয়েছে রবীন্দ্রনাথে তার ব্যাপ্তি ও প্রসারতা বহুগুণে ঋদ্ধ। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথে অন্যান্য ঋতুর শরীর ও আত্মার প্রকাশ ঘটেছে ব্যাপকভাবে। রবীন্দ্র সৃষ্টিতে ছয়টি ঋতুর উপস্থাপন গভীর ও বিচিত্রভাবে হলেও বৈশাখ এক স্বতন্ত্র আবেদনে জায়গা করে নিয়েছে। বৈশাখ বঙ্গাব্দের জন্ম মাস, রবীন্দ্রনাথেরও জন্ম মাস। সে কারণে বৈশাখের সঙ্গে কবি নাড়ির টান অনুভব করেন।

বঙ্গবর্ষের শুরু বৈশাখে। রৌদ্র-রুদ্র ঝঞ্ঝার ঝাণ্ডা উড়িয়ে তার আগমন। চৈত্রের অগ্নিদগ্ধ বৈশিষ্ট্যকে সঙ্গে নিয়েই বৈশাখের অগ্নিস্নান। পুরাতন প্রসঙ্গ, জীর্ণ জঞ্জাল, স্থবির স্থানুকে অপবিত্রকে পুড়িয়ে বিতাড়িত করে নতুনের নিশান ওড়ানো বৈশাখের কাজ। বৈশাখ বাংলার প্রকৃতির জন্ম মাস। এ মাসেই আর এক বৈশাখী দীপ্ত মানুষেরও জন্ম মাস। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বৈশাখের বাইরের রূপ তাঁর কর্মে সৃজনে উগ্রভাবে প্রকাশিত না হলেও অন্তর্গত বৈশিষ্ট্যে ও লক্ষ্যাভিসারে তিনি বৈশাখের যথার্থ প্রতিরূপ নির্মাণ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর সারা জীবনের সৃজন প্রক্রিয়ায় আত্মদহনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পুরাতনকে পেছনে ফেলে নব নব সৃষ্টির পথে নিজেকে চালিত করেছেন। বৈশাখের মতোই রবীন্দ্রনাথ বারবার নিজেকে ভেঙেছেন এবং নতুন সৃষ্টিতে ভরে তুলেছেন তাঁর সৃজনী ভুবন। তাই বৈশাখ রবীন্দ্রসত্তার সম্পূরক মাস। বৈশাখ দিয়ে যেমন বঙ্গবর্ষের জন্মোৎসব, তেমনি বৈশাখেই রবীন্দ্র জন্মোৎসব বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে সমৃদ্ধ করেছে উৎসব আনন্দের উৎকর্ষের মাধ্যমে। এই যে দুটো জন্মের অভিনব মেলবন্ধন, তা বাঙালিকে এক নব মন্ত্রণায় উজ্জীবিত করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৈশাখকে নানাভাবে অভিষিক্ত করেছেন, অভিনিবেশ ঘটিয়েছেন বাঙালির মনন ও সৃজনে, চিন্তা ও চিত্তের জগৎকে।

ব্যক্তিগত জন্মোৎসব পালন প্রাচ্যের সংস্কৃতি নয়। পাশ্চাত্য থেকে এর আবির্ভাব। বিশ শতকে প্রাচ্যে এর প্রভাব ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এটি এখন সারা বিশে^র অবধারিত ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের সাংবাৎসরিক আনন্দ পরিসরে রবীন্দ্র-জন্মোৎসব নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শত সংকট ও অভাবের মধ্যে বাঙালির উৎসবের অভাব হয়নি। উৎসবপরায়ণ বাঙালি নতুন কোনো উৎসবকে দ্রুতই আত্তীকরণের মাধ্যমে অভিনবত্ব এনে দিতে পারে। রবীন্দ্র-জন্মোৎসব তারই একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একজন কবির জন্মদিনে নগরে নগরে শহরে বন্দরে গ্রামেগঞ্জে প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে দেশব্যাপী এমন উৎসব কোনো দেশে কোনো কালে হয়নি। ঠিক জন্মোৎসব না হলেও কবির পঞ্চাশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ রবীন্দ্রনাথকে দেশের শ্রেষ্ঠ কবি-সাহিত্যিক হিসেবে সংবর্ধনা দিয়েছিল। তবে এটি উৎসবে পরিণত হয়নি একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরও রবীন্দ্রনাথের জন্মোৎসব পালিত হয়নি। শান্তিনিকেতনে নিয়মিতভাবে সীমিত আকারে জন্মদিন পালন হতো বটে তবে তা জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছেনি। তাঁর মহাপ্রয়াণের পরে রবীন্দ্র জন্মোৎসব চালু হয়। রবীন্দ্রনাথের জন্মোৎসব বাঙালির চৌদ্দতম পার্বণে পরিণত হলেও ভক্তের ভক্তির প্রাবল্যে তা রুচি ও রসের সীমা অতিক্রম করেনি। যা অন্যান্য পার্বণে লক্ষ্য করা যায়। হীরেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘রবীন্দ্র জন্মোৎসবে রবীন্দ্র ভাবনা’ প্রবন্ধে বলেন, আমাদের উৎসবাদীর মধ্যে রবীন্দ্র জন্মোৎসব বোধকরি সর্বকনিষ্ঠ, কিন্তু মর্যাদার দিক থেকে এখন প্রায় জ্যেষ্ঠদের সমকক্ষ। এতেই বোঝা যায়, রবীন্দ্র জন্মোৎসব বাঙালি সমাজ তথা বিশে^ কতখানি জায়গা করে নিয়েছে। অন্যান্য উৎসব যেখানে আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি, সেখানে রবীন্দ্র জন্মোৎসব একটি বৈশি^ক চরিত্র অর্জন করেছে। বিশে^র যেখানেই সংস্কৃতি পিপাসু বাঙালি আছে সেখানেই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে উৎসবাদী পালিত হয়। বাংলার অন্যান্য উৎসব পার্বণে লোকশ্রুতি জনশ্রুতি, শাস্ত্র সংহিতার মাধ্যমে পালন করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে তেমন নয়। রবীন্দ্র উৎসব রবীন্দ্রনাথের গান কবিতা চিত্র ও অন্যান্য রচনার মাধ্যমে পালিত হয়। রবীন্দ্রনাথের ভূষণেই যেন রবীন্দ্র বিভূষণ। বৈশাখ যেমন রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা ছাড়া পূর্ণতা পায় না, তেমনি রবীন্দ্র জন্মোৎসবও আলোকিত ও বাঙ্ময় হয়ে ওঠে রবীন্দ্র সংগীত ও কবিতায়। বলা যায়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শততম জন্মবার্ষিকী শত প্রতিকূলতার মধ্যে উদযাপিত হয়। বাঙালির ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সাহস আমাদের প্রত্যয়সিদ্ধ করেছে। স্বাধীনতার পর এ ধারাটি আরও বেগবান ও বিস্তৃতি লাভ করে। উদীচী, ছায়ানটসহ নানা প্রতিষ্ঠানের পরিসরে রবীন্দ্র জন্মোৎসবের জোয়ার এসেছিল। শিক্ষিত বাঙালিই নয়, ভারত তথা বিশে^ যারা সাহিত্য ও শিল্পানুরাগী, তারা রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেন বিশেষ দিনেই নয়, নির্বিশেষে নিরন্তরে। হীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায়-‘শিক্ষিত বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ আজ এমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যে, ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক প্রতিদিনই তাঁকে আমাদের স্মরণ করতে হয়। বন্ধু মজলিশে, চায়ের দোকানে, কফি হাউজে, রেডিওতে, টেলিভিশনে, সংবাদপত্রে, সাময়িকপত্রে রবীন্দ্রনাথ নিত্য আমাদের সম্মুখে উপস্থিত। তিনি আমাদের জীবনে কতখানি অনুপ্রবেশ করেছেন এখানেই তার প্রমাণ। একটু ভেবে দেখলে সবাই বুঝতে পারবেন যে, এটিই আমাদের রবীন্দ্রোৎসবের প্রধানতম অঙ্গ।’ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রবীন্দ্র-সংস্কৃতি মানুষের মুঠোবন্দি হয়েছে স্বাভাবিক আগ্রহে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। জীবন রসিক হয়ে ওঠা বাঙালি তো রবীন্দ্রনাথ পড়েই। জীবনের আনন্দ রস, দুঃখের রস, আঘাত ও ট্র্যাজেডিকে সহ্য করে, আত্মীকৃত করে মহামানবিক ও মহাজাগতিক আনন্দ রবীন্দ্রনাথই শিখিয়েছেন। তাই ‘নিত্য তোমারে চিত্ত ভরিয়া স্মরণ করি।’ আর পঁচিশে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথকে নানা মাত্রায় নানা আয়োজনে স্মরণ করে বাঙালি। এই স্মরণোৎসবের মধ্য দিয়ে বাঙালি নিজের দৈন্যকে যেমন অনুভব করে, তেমনি রবির আলোয় নিজেকে স্নান করিয়ে পবিত্র হয়। বিস্ময়ের আনন্দের অংশী হয়ে ওঠে। বৈশাখ ও রবীন্দ্রনাথকে একত্র করে বাঙালি গেয়ে ওঠে-‘হে নূতন/দেখা দিক আরবার জন্মের প্রথম শুভক্ষণে/…/ব্যক্ত হোক জীবনের জয়/ ব্যক্ত হোক তোমার মাঝে অসীমের বিস্ময়/উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে,/মোর চিত্ত মাঝে/চির নূতনের দিল ডাক/পঁচিশে বৈশাখ।’ রবীন্দ্রনাথের বৈশাখী ভাবনার সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়েছে পঁচিশে বৈশাখের জন্মতিথির সংযোগ সূত্র। ‘পঁচিশে বৈশাখ’ শিরোনামে পূরবী ও শেষসপ্তক কাব্যে দুটি কবিতায় কবিজগৎ ও জীবনের সামগ্রিকতার সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে উপলব্ধি করেছেন। আনন্দ বেদনা শোক-তাপ যাতনার অনুভূতির মধ্য দিয়ে নিজেকে কাল-কালান্তরের নিরন্তর প্রবাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন শেষসপ্তকের পঁচিশে বৈশাখ কবিতায়-‘পঁচিশে বৈশাখে তারপরে দেখা দিল/আর এক কালান্তরে-/সেদিন জীবনের রণক্ষেত্রে/দিকে দিকে জেগে উঠল সংগ্রামের সংঘাত/গুরু গুরু মেঘমন্ত্রে/একতারা ফেলে দিয়ে/কখনো বা নিতে হল ভেরী। ‘পূরবী’ কাব্যের পঁচিশে বৈশাখ কবিতায় প্রায় একই চেতনা ও অনুভবের প্রকাশ ঘটেছে। শাশ^ত ও সার্বকালীন কাল প্রবাহে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। কবির জীবনাবর্তন অনন্তকালের স্রোতে বাঁধা পড়েছে যেন। ‘এই দিন বৎসরে বৎসরে/নানা বেশে ফিরে আসে ধরণীর পরে/কালবৈশাখীর মত্ত মেঘে/বন্ধনহীন বেগে…রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৈশাখ বৈভব যেমন রঙে রসে মানবিক আবেদনে পরিপূর্ণ, তেমনই বাঙালির অসাম্প্রদায়িকতার মর্মমূলে যে মানব ধর্মের তথা বিশ^মানবতার স্বরূপ তার সন্ধানের উৎসভূমি। পুরাতনের বৈনাশিক রুদ্র মূর্তির অন্তরালে নবসৃষ্টির উদ্ভিন্ন উন্মাদনার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে নব উত্তরণের সৃজন মন্ত্রণায় পরিপূর্ণ বৈশাখ। বৈশাখের এই সৃজন মহাসড়কের শীর্ষবিন্দু পঁচিশে বৈশাখ। রবীন্দ্র জন্মোৎসবকে কেন্দ্র করেই বাঙালির সাংস্কৃতিক শুভযাত্রা। অশান্ত বিশে^র মানবধ্বংসী উন্মাদনার রণক্ষেত্রে শান্তি-সমীরণের এক জীবনাশ্রম গড়ে দেয় পঁচিশে বৈশাখ। সুকান্ত ভট্টাচার্যে মতো আমাদেরও প্রত্যাশা-আমার প্রার্থনা শোনো পঁচিশে বৈশাখ,/আর একবার জন্ম দাও রবীন্দ্রনাথের।/হতাশার স্তব্ধ বাক্য; ভাষা চাই আমরা নির্বাক,/পাঠাব মৈত্রীর বাণী সারা পৃথিবীকে জানি ফের। আজ শান্তিনিকেতনে পঁচিশে বৈশাখ কবি গুরুর জন্মবাসর-কখনো মন্দিরে কখনো সংগীত ভবনে আবার কখনো ছাতিমতলায়। আমরা বাঙালিরা রবীন্দ্রসত্তায় বাঙালিপনায় একাকার। হতে পারে এই চেতনায় নতুন কিছু মঙ্গল ভাবনার, রবীন্দ্রনাথের শুভচেতনায় আমাদের ভাবনালোকে। রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর শিল্পচেতনা বিজ্ঞানমনস্ককতায় গানের মূর্ছনায় আমরা স্নাত হয়ে থাকতে চাই সব রকম রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী হয়ে বাঙালিজীবনে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights