বাঞ্ছারামপুরে ১৬৮ নারী পেলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ৩০ লাখ টাকার সুদমুক্ত ঋণ
অনলাইন ডেস্ক
কোনো সুদ নেই, সার্ভিস চার্জ নেই, এমনকি দিতে হয় না কোনো জামানতও। তবু মিলছে ঋণ। দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের এমন মানবিক উদ্যোগে গত দুই দশকে ভাগ্য বদলেছে ৩১ হাজারের বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ১৬৮ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকার সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার আকানগর মাদ্রাসা মাঠে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে ঋণের টাকা তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাসিমুল হাই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার এই ১৬৮ অসচ্ছল নারীর প্রত্যেকের ওপর নির্ভরশীল একটি করে পরিবার। নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন থাকলেও আর্থিক সংকট বারবার তাঁদের পথ আটকে দিচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ পরিচালিত বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন।
২০০৫ সাল থেকে পরিচালিত সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এই ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বাঞ্ছারামপুর নয়, নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনা উপজেলারও হাজারো পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে।
ঋণের টাকা হাতে পেয়ে হাসিমুখে গুনে বুঝে নিচ্ছিলেন আকানগর গ্রামের জুলেখা আক্তার। তাঁর স্বামী ধনু মিয়া কাঠের কাজ করে সংসার চালান। ঋণের টাকা দিয়ে স্বামীর কাজে সহায়তা করবেন বলে জানান জুলেখা।
একই গ্রামের আছমা আক্তার বলেন, ‘কৃষিকাজের সময় এখন। এই টাকা দিয়ে কিছু জমি চাষ করব। কয়েক মাসের মধ্যেই আসল টাকা উঠে আসবে। ঋণের টাকাটা পেয়ে খুবই উপকার হয়েছে। বসুন্ধরা মালিকের জন্য দোয়া করি।’
বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাসিমুল হাই বলেন, চড়া সুদের ফাঁদ থেকে মুক্তি পেয়ে অসচ্ছল নারীরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। এর ফলে বদলে যাচ্ছে এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও।
তিনি ঋণগ্রহীতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই টাকা কোনো অবৈধ কাজে লাগাবেন না। সৎ পথে বৈধভাবে আয় করে সেই টাকা সংসারের কাজে লাগাবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকপক্ষের জন্য দোয়া করবেন। আপনারা সবাই ভালো থাকুন।’
বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত এমন ঋণ প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপ একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শুধু ঋণ নয়, শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রশিক্ষণ, সেলাই মেশিন বিতরণ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অনুদানের মাধ্যমেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ঋণ কার্যক্রম গ্রামীণ মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা আনয়নের পাশাপাশি নারীদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মো. চাঁনমিয়া সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেনসহ অন্যরা।
