বাবাকে আড়াই মিনিটে ১৭ কোপে হত্যা করলেন ফারুক, নেপথ্যে স্ত্রীর সঙ্গে ‘পরকীয়া

অনলাইন ডেস্ক

স্ত্রীর সঙ্গে বাবার অবৈধ সম্পর্ক! এই অপমান, ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিলেন ফারুক। শেষ পর্যন্ত সেই রাগ-ঘৃণার বিস্ফোরণে রবিবার রাতে ঘুমন্ত বাবার ওপর কোদাল চালালেন তিনি। মাত্র আড়াই মিনিটে ১৭টি কোপ। বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করে নির্বিকারভাবে পাশে বসে বিড়ি টানছিলেন ছেলে। মাদারীপুরের শিবচরে ঘটেছে এ রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড।

জানা গেছে, রবিবার রাতে শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রাম এলাকায় স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে বাবাকে হত্যা করেছেন ছেলে ফারুক (২৭)। নিহত মতিউর ইসলাম (৫০) চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানার হারিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন।

পুলিশ জানায়, কাজের সন্ধানে কয়েক দিন আগে বাবা-ছেলে দুজন মাদারীপুরে আসেন। বাঁশকান্দি এলাকায় রসুন বপনের কাজে যুক্ত ছিলেন তারা। রবিবার (৯ নভেম্বর) রাতের খাবার শেষে পাশাপাশি রুমের বিছানায় ঘুমাতে যান তারা। কিন্তু তার আগেই বাবার এক অপ্রত্যাশিত আচরণে ফেটে পড়ে ফারুকের প্রতিশোধের আগুন।

রাত ১০টার দিকে ঘুমানোর আগে নিজের ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মতিউর ইসলাম। পাশের ঘরে বসে বিড়ি খেতে খেতে কথোপকথন শুনছিলেন ফারুক। তখনই মাথায় ঘুরতে থাকে প্রতিশোধের চিন্তা। মধ্যরাত পেরিয়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে বাবা ঘুমিয়ে পড়লে পাশের ঘর থেকে কোদাল হাতে এসে মুখে প্রথম কোপ দেন। এরপর মুখ, মাথা, বুক—এলোপাতাড়ি ১৭টি কোপ। মাত্র আড়াই মিনিটে নিস্তেজ হয়ে পড়েন মতিউর ইসলাম।

রক্তাক্ত লাশের পাশেই নির্বিকারভাবে বসে বিড়ি টানা শুরু করেন ফারুক। শব্দ পেয়ে বাড়ির মালিকের ছেলে ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভয়াবহ দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। তারা সঙ্গে সঙ্গে শিবচর থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে ফারুককে গ্রেফতার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল ও রক্তমাখা জামাকাপড় জব্দ করে।

মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কোহিনূর বেগম (ফারুকের মা) বাদী হয়ে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেফতারের পর সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে ফারুককে আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। সেখানে জানান, পরিবারের অমতে বিয়ে না হওয়ায় ক্ষোভ ছিল তার। পরে যার সঙ্গে বিয়ে হয়, সেই স্ত্রীর সঙ্গে তার বাবা ও ভাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়িও হয়। এর পেছনেও বাবাকে দায়ী করেন ফারুক।

বাবার বিশ্বাসঘাতকতা আর অপমান মেনে নিতে না পেরে আগেই হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদারীপুরে এসে কোদাল লুকিয়ে রাখেন পাশের ঘরে। সুযোগ বুঝে বাবাকে হত্যা করেন।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাবাকে হত্যার জন্য আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল ফারুক। রাতের খাবারের পর থেকেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করতে একের পর এক কোপ দিতে থাকে সে। হত্যার পরও কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি তার মুখে।

তিনি আরও জানান, স্বীকারোক্তির পর আদালতের নির্দেশে ফারুককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights