বিএনপি যে আশ্বাসে গিয়েছিল সেই আশ্বাসেই গিয়েছি

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেছেন, ২০১৮ সালে যে আশ্বাসের ভিত্তিতে বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল সেই আশ্বাসেই এবার তিনি ভোটে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট সরকারের আস্থার ওপর ভরসা করে আন্দোলনের অংশ হিসেবে যেভাবে নির্বাচনে গিয়েছিল। আমরা সেভাবে যেতে পারি কি না দলীয় ফোরামে আলোচনা হলে সিদ্ধান্ত হয়- নির্বাচনে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য পাঁচ বছরের চার বছর সংসদে কথা বলেছেন। আমিও সেই সুযোগ নিতে চাই। গতকাল একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। নির্বাচনি আসন প্রসঙ্গে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, কক্সবাজার-১ আসন থেকে ভোট করছি। সাংগঠনিকভাবে পরিচিত জায়গা। আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হঠাৎ করে রাজনৈতিক প্লাটফরম পরিবর্তন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে লোভ-লালসা সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেনি। ২০১৪ সালে নির্বাচনে যেতে পারতাম, যাইনি। ২০১৮ সালে ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করে সরকারি জোটে যেতে পারতাম, যাইনি। হঠাৎ করে প্লাটফরম পরিবর্তন বিষয়টা সঠিক নয়। তিনি বলেন, ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১ মিনিটের নোটিসে ২০ দলীয় জোট ভেঙে দেওয়া হয়। হতভম্ব হয়ে যাই। গত বছরের ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ ফলাফল জিরো। ২৮ অক্টোবরের বিশাল সমাবেশের ফলাফল জিরো। এরপর নভেম্বর মাসজুড়ে যে কর্মসূচি পালন হয়েছে তা দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব নয়। আমি দীর্ঘসময় ধরে যেসব বিষয় মিডিয়ায় বলেছি বা বলছি এগুলো সংসদে গিয়ে বলতে পারলে জনসাধারণের অনেক বেশি উপকার হবে।

বিভিন্ন টকশো, বিজয়নগর পানির ট্যাংকের নিচে যা বলে এসেছি, তা সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে চাই। নির্বাচনে সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, পরিষ্কার নিয়তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সরকারের সঙ্গে কোনোরকম গোপন আলোচনায় অংশ নেইনি। তিনি বলেন, ১৬ বছর এক প্ল্যাটফরমে ছিলাম, এখন ভিন্ন প্ল্যাটফরমে চেষ্টা করব। কোথাও লিখিত চুক্তি করিনি যে, প্ল্যাটফরম বদল করতে পারব না। নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় যারা সমালোচনা করছেন তাদের প্রসঙ্গে বলেন, এটা তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তাদের ধন্যবাদ। তবে ভাষা প্রয়োগে শালীনতার অভাব, এটির প্রতিবাদ জানাই। রাজনীতিতে সহনশীলতার প্রয়োজন। কল্যাণ পার্টি থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ ধরনের বহিষ্কার করার এক্তিয়ার কারও নেই। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র জিরো অনুসরণ করা হয়েছে। কিছু সংখ্যাক বিভ্রান্ত যুবক দলের প্যাড ছাড়িয়ে এ কাজ করতে পারে না। মিডিয়ায় প্রকাশের আগে যাচাই হওয়া উচিত। কল্যাণ পার্টি নিবন্ধিত দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights