বিজয়ী হলে জাতীয় সরকার করবে জামায়াত

যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে এ ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার দুটি শর্ত মানতে হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব লন্ডনের মাইদা গ্রিল ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। অনুষ্ঠানের আয়োজন ও পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামী ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের জনগণ সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন চায় এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে পারে। তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ‘মদিনা সনদের’ আদলে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। বাংলাদেশ সবার দেশ, কোনো ধর্মের মানুষের ওপর দমনপীড়ন চলবে না এবং সব নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্র হলেও দেশটির আশ্রয়ে থাকা পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া উচিত। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। তিনি প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটে নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্বাচনকালে দেশে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে বক্তব্যের শুরুতে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ডা. শফিকুর রহমান দুই দিনের সফরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সফরকালে তিনি যুক্তরাজ্য সরকারের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। পাশাপাশি কমনওয়েলথের একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারেও যোগ দেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার সালেহীন, সাংবাদিক মো. আবদুল মুনিম জাহেদী ক্যারলসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা।

এদিকে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের এই সংকটময় সময়ে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় ঐক্যই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে- গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব। আমরা সব দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা ও নাগরিককে ধৈর্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানাচ্ছি। জামায়াত আমির বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাতবরণ করেছেন। তাঁর এই শহীদি মৃত্যুতে সারা দেশে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনগণ মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছে এবং একই সঙ্গে তাঁর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার বিষয়টি নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর দেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে যে ক্ষোভ ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা ন্যায্য ও বোধগম্য। কিন্তু এই ক্ষোভকে পুঁজি করে কোনো পক্ষ যদি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে, তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা স্পষ্টভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করছি- এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হতে পারে। জামায়াত আমির বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং জনগণের কণ্ঠস্বর প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে গণতান্ত্রিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর আঘাত। তিনি আরও বলেন, যে কোনো ন্যায়সংগত আন্দোলন শান্তিপুর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। নইলে মূল লক্ষ্য অর্জন ব্যর্থ হতে পারে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights