বিদেশে চাকরির ফাঁদে নিঃস্ব বহু পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে একটি চক্রের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিউজিল্যান্ড, লাওস ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলার সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলেছে। এ ঘটনায় থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ হয়েছে। প্রণব কুমার সাহা নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, প্রায় এক বছর আগে তার পরিচয় হয় ভুট্টো মৃধা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। ভুট্টো নিজেকে মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের চকবিরহী গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমানের হয়ে কাজ করেন এবং তার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব। পরে ১৪ লাখ টাকার চুক্তিতে নিউজিল্যান্ডে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হলে চারজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়। তাদের নামে আলাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রও করা হয়। কিন্তু বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গিয়ে জানা যায়, তার কাগজপত্র জাল। মির্জাপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে তাকে লাওসে পাঠানোর প্রলোভন দেখান মশিউর রহমানের বড় ভাই মতিউর রহমান। তার কথায় বিশ্বাস করে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে কালামসহ কয়েকজন লাওসে যেতে সম্মত হন। পরে ১২ জনকে ওই দেশে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে তারা কোনো কাজ পাননি। নানা দুর্ভোগের পর তারা দেশে ফিরে আসেন। কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্থানীয় দালালরা তাদের অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। পরে প্রায় ৮৭ দিন আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরও ৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরিবারের সহায়তায় সেই টাকা পরিশোধ করার পর তারা দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

স্থানীয়দের দাবি, মোহনপুর ছাড়াও বাগমারা উপজেলার বাইগাছা ও সাঁইপাড়া এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকেও বিদেশে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি। এতে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে অভিযুক্ত ভুট্টো মৃধা অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এজন্য সময় প্রয়োজন। তার দাবি, প্রথমে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমানের মাধ্যমে এবং পরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার এক ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করেছেন। অবশ্য মশিউর রহমান বর্তমানে অ্যান্টার্কটিক মহাসাগরে একটি জাহাজে কর্মরত থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। আর কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, বিদেশে লোক পাঠানোর কাজে তিনি সরাসরি জড়িত নন। তবে একটি গ্রুপ পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। অপরদিকে মোহনপুর থানার উপপরিদর্শক ইয়ামিন আলী বলেন, বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার বিষয়ে দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা বিনতে আখতার বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কেউ যদি এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকেন, তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights