বিশ্ব কাঁপানো চীনা প্রতিভা! লুও ফুলির মস্তিষ্কেই ডিপসিকের রহস্য

অনলাইন ডেস্ক
চীনের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ডিপসিক বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনি ও ক্লডের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে গেছে। ডিপসিকের এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে অন্যতম প্রধান কারিগর ২৯ বছর বয়সী লুও ফুলি।

কে এই লুও ফুলি?
লুও ফুলি চীনের ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP) গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বেইজিং নরমাল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর পিকিং ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব কম্পিউটেশনাল লিঙ্গুইস্টিকস থেকে উচ্চতর গবেষণা করেন।

২০১৯ সালে অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটেশনাল লিঙ্গুইস্টিক্স কনফারেন্সে আটটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রযুক্তি বিশ্বে নিজের প্রতিভার জানান দেন তিনি। এরপর আলিবাবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ড্যামো একাডেমিতে যোগ দিয়ে মাল্টিলিঙ্গুয়াল এআই মডেল ভেকো (VECO) তৈরিতে কাজ করেন।

ডিপসিকের সাফল্যে ফুলির ভূমিকা
২০২২ সালে লুও ফুলি ডিপসিকে যোগ দেন এবং ডিপসিক (V-2) মডেলের উন্নয়নে মূল ভূমিকা রাখেন। তার গবেষণা ও নেতৃত্বে ডিপসিকের এআই মডেল বিশ্ববাজারে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, ডিপসিকে কাজ করার সময় ফুলি তার অসাধারণ দক্ষতা দিয়ে শাওমির প্রতিষ্ঠাতা লেই জুনের নজর কাড়েন। লেই জুন তাকে ১০ মিলিয়ন ইউয়ান বার্ষিক বেতনে শাওমিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন, কিন্তু ফুলি সেই প্রস্তাব নাকচ করে ডিপসিকের সঙ্গেই কাজ চালিয়ে যান।

ডিপসিক বনাম প্রতিদ্বন্দ্বী এআই মডেল
চীনের ৪০ বছর বয়সী লিয়াং ওয়েনফেং ২০২৩ সালে ডিপসিক প্রতিষ্ঠা করেন। কম খরচে তৈরি হওয়া এই চীনা এআই চ্যাটবট বর্তমানে উন্নত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) প্রতিযোগিতায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপসিক ৩-এর পারফরম্যান্স মেটার লামা ৩.১ ও আলিবাবার কুয়েন ২.৫-এর সমতুল্য। এটি ওপেনএআই-এর GPT-4o ও অ্যানথ্রপিকের Claude 3.5 Sonnet-এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম।

শুধু তাই নয়, ডিপসিকের আর-১ মডেল ওপেনএআই-এর মিনি মডেলকেও ছাড়িয়ে গেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান Artificial Analysis জানায়, গুগল, মেটা ও অ্যানথ্রপিকের তৈরি মডেলগুলোর তুলনায় ডিপসিকের এআই প্রযুক্তি আরও উন্নত।

যুক্তরাষ্ট্রেও চমক দেখাচ্ছে ডিপসিক
মাত্র এক সপ্তাহে ডিপসিক যুক্তরাষ্ট্রে চ্যাটজিপিটিকে পেছনে ফেলে অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের শীর্ষস্থান দখল করেছে। এর ফলে এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্য কমতে শুরু করেছে।

তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights