বিশ্বকাপ হেরে কপাল পুড়লো পুলিসিকের
অনলাইন ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগেই তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বিশ্বকাপের ব্যর্থতা তার বাণিজ্যিক মূল্য এবং ভাবমূর্তিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। দলের এই হতাশাজনক পরাজয়ের পর সমর্থকদের অনেকেই দায় চাপাতে শুরু করেন অধিনায়ক পুলিসিকের ওপর। ম্যাচটিতে পায়ে চোটও পান তিনি। পরে পরীক্ষায় তার হাড়ে আঘাত এবং সূক্ষ্ম ফাটল ধরা পড়ে।
পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিসিক লেখেন, ‘কী বলব বুঝতে পারছি না। যারা আমাদের বিশ্বাস করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থনই আমাদের এত দূর এনেছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। আমি আরও ভালো কিছু উপহার দিতে চেয়েছিলাম। তবু এই দলের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। এই গ্রীষ্মের স্মৃতি সারাজীবন মনে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের জন্য এটি কেবল শুরু।’
তবে তার এই বার্তা সমালোচনার ঝড় থামাতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা এখন তার বাণিজ্যিক মূল্য। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিজ্ঞাপন ও প্রচারচুক্তি থেকে বছরে প্রায় দুই কোটি মার্কিন ডলার আয় করেন পুলিসিক।
একজন ক্রীড়া বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর আগামী বিশ্বকাপের আগে নতুন করপোরেট পৃষ্ঠপোষক খুঁজে পাওয়া পুলিসিকের জন্য কঠিন হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে বড় হারের পরও টেলিভিশনে পুলিসিককে নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার অব্যাহত ছিল। এতে সমর্থকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়েছে। তবে সবাই সমালোচনার সঙ্গে একমত নন।
সাবেক স্কটিশ ফুটবলার ও বর্তমান বিশ্লেষক ক্রেইগ বার্লি মনে করেন, পুলিসিককে অন্যায়ভাবে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘এটি ফুটবল বিশ্লেষণের চেয়ে একজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণেই বেশি পরিণত হয়েছে।’
বার্লি আরও বলেন, ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে নিজের জায়গা ধরে রাখা সহজ নয়। পুলিসিক জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, ইংল্যান্ডের চেলসি এবং ইতালির মিলানে খেলেছেন। এসব ক্লাবে সফলভাবে নিজেকে প্রমাণ করাই তার সামর্থ্যের বড় প্রমাণ।
বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর তাই এখন পুলিসিকের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ একদিকে মাঠে নিজের সেরা ছন্দে ফেরা, অন্যদিকে বিজ্ঞাপনদাতা ও সমর্থকদের আস্থা আবারও অর্জন করা।
