বিশ্বকাপের পরেই বিদায় নিচ্ছেন দেশম, তারপর?

অনলাইন ডেস্ক

ফ্রান্স ফুটবল দলের কোচ হিসেবে নিজের দীর্ঘ ও সফল অধ্যায়ের ইতি টানতে যাচ্ছেন দিদিয়ের দেশম। আগামী ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই তিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের পরেই তিনি ফরাসি ডাগআউট ছেড়ে দেবেন। ক্ল্যারফন্টেইন-এন-ইভলিন্সের ঐতিহ্যবাহী চ্যাঁতো দে ক্ল্যারফন্টেইন অনুশীলনের মাঠ থেকে শেষবারের মতো বিদায় নেওয়ার আগে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশম কথা বলেছেন নিজের ভবিষ্যৎ, দলের রণকৌশল এবং নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে। দেশের মাটিতে তাঁর রক্ষণাত্মক খেলার শৈলী নিয়ে কিছুটা সমালোচনা থাকলেও, আন্তর্জাতিক মহলে ফরাসি কোচের অর্জন ও ট্যাকটিকসের কদর সবসময়ই বেশি। তবে নিজের পেছনে ফেলে যাওয়া কীর্তি নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছেন না তিনি। তাঁর পুরো মনোযোগ এখন কেবলই চলতি বিশ্বকাপে।

উগো লরিস, অলিভিয়ে জিরু, রাফায়েল ভারান এবং অঁতোয়ান গ্রিজম্যানের মতো তারকাদের অবসরের পর ফরাসি ড্রেসিংরুমে এখন তারুণ্যের জয়গান। নতুন এই প্রজন্মের মানসিকতার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে দেশম জানান, আজকের তরুণ ফুটবলারদের সাথে অনেক বেশি আলোচনার প্রয়োজন হয়। এই পটপরিবর্তনের অংশ হিসেবেই উগো লরিসের উত্তরসূরি হিসেবে কিলিয়ান এমবাপ্পের কাঁধে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন তিনি।

দেশমের মতে, এমবাপ্পে মাঠের ভেতরে ও বাইরে দুর্দান্ত নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এমবাপ্পে খুব ভালো করেই জানেন যে তিনি যখন কথা বলেন, তখন তিনি কেবল নিজের জন্য নয় বরং দলের সমস্ত খেলোয়াড়ের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলেন। রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা পিএসজিতে এমবাপ্পের সেন্ট্রাল পজিশনে খেলা নিয়ে সমালোচকদের ধুয়ে দিয়ে দেশম বলেন, বিগত তিন বছর ধরে তিনি আক্রমণভাগের কেন্দ্রেই খেলে আসছেন এবং তাকে যারা এই পজিশনে খেলিয়েছেন, তারা কেউ বোকা নন। ইউরো ২০২৪-এ নাক ভাঙা এবং পিএসজির শেষ ছয় মাসে পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় এমবাপ্পের প্রস্তুতি নিখুঁত না হলেও অলিভিয়ে জিরুর অল-টাইম স্কোরিং রেকর্ড ভাঙার একদম দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন এই ফরোয়ার্ড।

এমবাপ্পের পাশাপাশি বর্তমান ফরাসি আক্রমণে তারুণ্যের যে জোয়ার এসেছে, তা সামলানোই এখন দেশমের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দলে মাইকেল অলিসের মতো তরুণ প্রতিভা আছেন, যাঁকে এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কোচ। এছাড়া ওসমান দেম্বেলে, রায়ান চেরকি, দেজিরে দুয়ে, ব্র্যাডলি বারকোলাদের মতো একঝাঁক প্রতিভাবান ফরোয়ার্ডের মধ্য থেকে শুরুর একাদশ বেছে নেওয়া এবং যারা সুযোগ পাচ্ছেন না তাদের অসন্তোষ বা হতাশা সামাল দেওয়াটা বেশ কঠিন কাজ বলে মনে করেন তিনি। বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়ার চেয়েও একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করা আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেশি জরুরি বলে মনে করেন অভিজ্ঞ এই মাস্টারমাইন্ড।

কোচিং ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে দেশম এখনো চূড়ান্ত কিছু ভাবেননি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। জুভেন্টাস, মোনাকো এবং মার্সেইয়ের সাবেক এই ম্যানেজারের কাছে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে, তবে এবার বিরতি নেবেন নাকি ক্লাব ফুটবলে ফিরবেন, সেই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাঁর আছে।

১৪ বছরের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে ফ্রান্সকে তিনটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে তোলা এবং একটি নেশনস লিগ জেতানো দিদিয়ের দেশমকে আধুনিক আন্তর্জাতিক ফুটবলের গডফাদার বলা চলে। ক্ল্যারফন্টেইনের প্রবেশদ্বারে থাকা বিশ্বকাপের ট্রফিটির দিকে তাকালে দেশমের অবদান এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই, কারণ খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে এবং কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে, ফ্রান্সের দুই মহিমান্বিত জয়ের পেছনেই জড়িয়ে আছে তাঁর নাম।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights