বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফেড সুদের হার আরও বাড়াতে পারে- এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সোমবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ৪২ মিনিট) স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৩৫ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে শুক্রবার শেষ হওয়া সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল। জুন মাসে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমার পথে রয়েছে, যা ঘটলে টানা চতুর্থ মাসে দাম কমার রেকর্ড হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও বাজারের উদ্বেগ
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি না মানলে ইরানের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষক রিকার্ডো এভানজেলিস্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের দামের ওপর চাপ রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ ফিরে আসতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর নীতির প্রত্যাশা আরও জোরালো হতে পারে।”

সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় স্বর্ণে চাপ
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ স্বর্ণ কোনও সুদ বা আয় প্রদান করে না।
বাজারে বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ তিনবার সুদের হার বাড়াতে পারে। ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬১ শতাংশ।

এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান তথ্য এবং বেসরকারি খাতের বাইরে কর্মসংস্থান (নন-ফার্ম পে-রোল) প্রতিবেদনের দিকে। এসব তথ্য থেকে ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এভানজেলিস্তা বলেন, “চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পে-রোলের তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হলে ফেডের আরও কঠোর অবস্থানের প্রত্যাশা বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন দেখা গেছে।
সোমবার স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৮২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৮৮ দশমিক ০১ ডলারে।

তবে পালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়েছে। ধাতুটির দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২১২ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights