বিশ্বে তিনজনের মধ্যে একজন স্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খেতে পারে না: জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা সামান্য কমলেও এখনও এক বিশাল জনসংখ্যার জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ রীতিমতো ক্ষমতার বাইরে রয়ে গেছে। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিশ্বের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন বা প্রায় আড়াইশ’ কোটিরও বেশি মানুষ প্রয়োজনীয় ও সুষম খাবার কিনে খেতে পারছেন না।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে ক্ষুধার সার্বিক হার কিছুটা কমে সাত দশমিক আট শতাংশে নেমে এসেছে, যা টানা তিন বছর ধরে কমার একটি ভালো দিক। কিন্তু ক্ষুধা কমলেও সাধারণ মানুষের জন্য ফলমূল, শাকসবজি, দুধ ও মাংসের মতো পুষ্টিকর খাবার কেনা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে এক দিনে একজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য বিশ্বজুড়ে গড়ে যে খরচ হিসাব করা হয়েছে, তা চরম দারিদ্র্যসীমার মূল্যের চেয়েও অনেক বেশি। ফলে পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব এবং অসচেতনতার কারণে বহু দেশে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো বিভিন্ন ধরনের জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে সরকারি নীতিগুলো সাধারণত চাল, গম বা শ্বেতসারজাতীয় শস্যে বেশি ভর্তুকি দিয়ে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্যালরি পূরণ হলেও খাদ্যের বৈচিত্র্য বজায় থাকছে না। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ফল ও শাকসবজির মতো স্বাস্থ্যকর খাদ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। আঞ্চলিক হিসেবে আফ্রিকায় এর প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ সুষম খাবার কিনে খাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই বৈশ্বিক সংকট দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা মুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্য পূরণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
