বুড়িগঙ্গায় প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ মাঝিদের
মাহির মিলন, জবি প্রতিনিধি:
মোহাম্মদ হারুন। কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় ৩৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে বুড়িগঙ্গায় প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছেন তিনি। লঞ্চ যাত্রীদের ব্যবহৃত পানির বোতলসহ প্লাস্টিকের বিভিন্ন উৎকৃষ্ট দ্রব্যসমূহ কুড়িয়ে নৌকায় করে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করছেন হারুনের মতো প্রায় ২০ জন মাঝি।
রাজধানী পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠেছে দক্ষিণ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্রবেশ পথ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। এই রুটে দৈনন্দিন চলাচল করে ছোট বড় অসংখ্য লঞ্চ, ট্রলার, স্টিমারসহ মালবাহী বিভিন্ন ধরনের নৌকা। এসব রুটের নিয়মিত যাত্রীরা আসা-যাওয়ার পথে প্লাস্টিকের পানির বোতলসহ বিভিন্ন উচ্ছিষ্ট সরঞ্জামাদি ফেলে প্রতিনিয়ত দূষণ করছে মৃতপ্রায় বুড়িগঙ্গা নদীকে।
মোহাম্মদ হারুনের মতো, প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে বেলা দশটা পর্যন্ত এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীর কামরাঙ্গীরচর অংশ থেকে শুরু করে জিনজিরা হয়ে বসুন্ধরা অংশ পর্যন্ত এই পথে ১৮-২০ জন মাঝি ছোট-বড় নৌকায় করে যাত্রীদের ফেলে দেয়া এসব প্লাস্টিকের বোতলগুলো কুড়িয়ে থাকেন। এছাড়াও তারা বোতল কুড়ানোর পাশাপাশি নদীর তলদেশ থেকে চুম্বকের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের ধাতব পদার্থ কুড়ান।
মোহাম্মদ সেলিম নামের একজন মাঝি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে আমরা বোতল কুড়িয়ে সংসার চালাই। আগে প্রতিদিন দুপুরে চার থেকে ছয় ঘণ্টা নদীতে থাকলে ৭০০-৮০০ টাকার বিক্রি হতো, কিন্তু পদ্মা সেতুর কারণে এখন লঞ্চ কমে যাওয়ায় ৬ থেকে আট ঘণ্টা কিংবা মাঝেমধ্যে পুরো রাত নদীতে থেকেও ৪০০-৫০০ টাকার বেশি বোতল পাওয়া যায় না। গরমের সময় মানুষ বেশি পানি খেলে ৩০-৩৫ কেজি বোতল পাওয়া যায়, কিন্তু শীতের সময় সেটা কমে ১৫-২০ কেজি হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বোতল কুড়াই বলে সবাই খারাপ নজরে দেখে। আমাদের পরিবারও এজন্য সমাজ থেকে অবহেলিত। কিন্তু বর্তমানে কোথাও কাজ করে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বেশি বেতন পাওয়া যায় না। অথচ বোতল কুরিয়ে মাস শেষ ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা রোজগার করতে পারি অনায়াসে। যদিও বর্তমান বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। আমরা নদী থেকে প্লাস্টিকের এইসব জিনিসপত্র তুললেও কেউ আমাদের কখনো সহযোগিতা করেননি।’
