বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাস করতে হয় ওদের

ফেনী প্রতিনিধি

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী স্কুল পরশুরাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ সংকটে ক্লাস করতে হচ্ছে পুরনো জরাজীর্ণ ভবনে। ভবনটির টিনের চাল ফুটো থাকায় অনর্গল বৃষ্টির পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে।

যারা ছাতা ব্যবহার করছেন না তাদের বই, খাতা ও স্কুল ব্যাগ বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাচ্ছে। সরকারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এ দুরাবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস করতে আসছেন না বলে জানা যায়।

স্কুলটি নতুন একটি ভবন থাকলেও সেখানে রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকট। শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পুরাতন আধা পাকা টিনসেডের কক্ষে পাঠদান করানো হচ্ছে।
শ্রেণি কক্ষে গিয়ে দেখা যায় টিনের চাল ফুটো থাকায় সরাসরি বৃষ্টির পানি পড়ছে শ্রেণিকক্ষে। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই শ্রেণি কক্ষের বেশীর ভাগ শিক্ষার্থী ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাস করছে।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে পরশুরাম সরকারি পাইলট হাই স্কুলে। স্কুলের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের অফিস কক্ষ। নিচ তলায় শুধুমাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। বাধ্য হয়েই পুরাতন টিনসেডের কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই জরাজীর্ণ টিনসেডের বিল্ডিং শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন তারা। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানির কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো অনেকটা কষ্টকর ব্যাপার।

অভিভাবকরা জানান, শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ায় তাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে রাজি হচ্ছে না। স্কুলটির অধিকাংশ ক্লাসরুমের অবস্থায় খুবই জরাজীর্ণ। একটু বৃষ্টি হলেই চালের পানি গড়িয়ে ভেতরে পড়ে। বৃষ্টি একটু বেশি হলেই শিক্ষার্থীদের ছাতা কিংবা পলিথিন মাথায় দিয়ে বসতে হয়।

পরশুরাম সরকারি পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান চৌধুরী আসিফ বলেন, ঝুকিপূর্ণ বোঝার পর শিক্ষার্থীদের এ ভবনে ক্লাস করাতে হচ্ছে। বিষয়টি ইতিপূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। পুরাতন টিনসেডটি সংস্কারের জন্যও কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। তাই এই বৃষ্টির মধ্যে বাধ্য হয়েই পুরাতন টিনসেডে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিউল আলম তালুকদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস চলছে। নতুন ভবন নির্মান করা হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা শসসাদ বেগম বলেন, ঘটনাটি আমি আজই প্রথম জেনেছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সরেজমিন দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights