বেড়েছে অটোরিকশা ছিনতাই এক মাসেই তিন খুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে এক মাসেই তিনজন চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দামকুড়া ও পবার ভুগরোইল এলাকায় দুজনকে হত্যায় জড়িত সন্দেহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে কাটাখালীতে অটোরিকশা চালক আলম হত্যায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ধারণা, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই হত্যাকান্ডগুলো ঘটেছে। সব হত্যাকান্ড ঘটেছে রাতে। পরে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত ২১ অক্টোবর পবার ভুগরোইল এলাকা থেকে হত্যাকান্ডের শিকার সিরাজুল ইসলামের (৬৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রক্তাক্ত লাশে ছিল জখমের চিহ্ন। এর আগে সিরাজুলের কাছ থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশা বিক্রিকালে জেলার গোদাগাড়ীতে জনতার হাতে আটক হন ফিরোজ আলী (১৯), রাতুল হাসান (১৯) ও মো. শুভ (১৯) নামের তিন যুবক। তাদের বাড়ি রাজশাহী নগরীতে।
পুলিশ জানায়, ২০ অক্টোবর গভীর রাতে নগরীর এয়ারপোর্ট থানার ভুগরোইল গ্রামে সিরাজুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। পরের দিন দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সিরাজুলের লাশ উদ্ধার করে। তিনি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার কাঞ্চন গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে ১৭ অক্টোবর নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী বাজার-সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশ থেকে অটোরিকশা চালক আলমের (৬৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, আলমের রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর দামকুড়া থানার ল’পাড়া গ্রামে সাজামুল ইসলাম নামের এক রিকশাচালকের লাশ পাওয়া যায়। তাকেও খুনের পর রিকশাটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ৪ অক্টোবর মাসুম আলী (৩৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মাসুম আদালতে জানান, সাজামুলের রিকশা তিনি সিরাজগঞ্জে নিয়ে বিক্রি করেছিলেন। নগর পুলিশের মুখপাত্র সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলো যাত্রীবেশে ঘটেছে। অল্প দিনের মধ্যে ঘটে যাওয়া তিনটি ঘটনা প্রায় একই রকম। এসব ঘটনায় পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছে। রাতে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অটোরিকশা চালকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
