বোমায় নতুন সংযোজন সিজিয়াম পারম্যাঙ্গানেট!
ইমরান রহমান
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী বোমা ও কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ঢাকার আশুলিয়া ও সাভার থেকে উদ্ধার হওয়া প্রেশার কুকার বোমার রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেম, মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে পাওয়া ছাতার ভিতরের টাইম বম্ব সিস্টেমে নতুন করে উগ্রবাদীদের ভয়ংকর তৎপরতা সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সারা পৃথিবীতে মাদার অব ডেভিল নামে খ্যাত ট্রাই-অ্যাসিটোন ট্রাইপার-অক্সাইড (টিএটিপি) দিয়ে বোমাগুলো তৈরি হলেও বর্তমানে বোমার ভিতর এমন কিছু রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা আগের থেকে খুবই বিপজ্জনক। বিশেষ করে প্রেসার কুকার বোমায় সিজিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের মতো রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ মিলছে। যা উচ্চ তাপে অক্সিজেন সরবারহ করে বোমাকে আরও ভয়ংকর ও শক্তিশালী করে তোলে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নব্য জেএমপির বোমার কারিগররা আরও শক্তিশালী বোমা তৈরির পরীক্ষা শুরু করেছে। ডিএমপির সিটিটিসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি আলোচনায় আসা উগ্রবাদী তৎপরতার সবকিছুর সঙ্গেই নব্য জেএমবি জড়িত। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে আশুলিয়া ও সাভারের পাইপ বোমা ও প্রেশার কুকার বোমার ঘটনাগুলো একই সূত্রে গাঁথা। কয়েকজন দক্ষ কারিগর মিলে ভয়ংকর বোমা তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে তারা খোলা বাজার থেকেই শিল্প খাতে ব্যবহারের কথা বলে বোমা তৈরির বিভিন্ন কেমিক্যাল সংগ্রহ করছে। সূত্র জানিয়েছে, নব্য জেএমবির সবচেয়ে দক্ষ কারিগর নাজমুল হাসান, বোমারু মামুন, আশুলিয়ার দিয়াখালী এলাকার হোমিও ডাক্তার কামাল হোসেন, বাপ্পি ও যাত্রাবাড়ীতে চেকপোস্টে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নাম আসা রাকিবকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণ ঘটা মাদ্রাসায় যাতায়াত ছিল নব্য জেএমবির বোমারু মামুনের। সেখানে বিস্ফোরণ ঘটার পর সে আশুলিয়া ও সাভারে তৎপরতা শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কারাগারে থাকা অনেক জঙ্গি জামিনে মুক্ত হওয়ায়, তাদের অনেকেই আবারও উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করছে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সূত্র জানায়, শঙ্কার বিষয় হচ্ছে, ট্রাই এসিটন, ডাই এসিটন, বোরিক এসিড ও ফসফরাস এসিডের মতো রাসায়নিক প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ধুতুরা বীজের মতো এক ধরনের পদার্থ মিলেছে সাভারের ল্যাবে। নতুন এসব উপাদানের সংযুক্তির আলামত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট খুবই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। সূত্র আরও জানিয়েছে, আশুলিয়া ও সাভার থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি প্রেশার কুকার বোমার ক্ষেত্রে উৎসুক জনতা এক জায়গায় হলেই দূর থেকে রিমোট টিপে বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব ছিল। আর মতিঝিলে মেট্রোস্টেশনের নিচে রাখা টাইম বোমায় টাইম সেট করতে হেরফের হওয়ায় বিস্ফোরণ ঘটেনি। সিটিটিসির এডিসি (ইনভেস্টিগেশন) মাঈন উদ্দীন চৌধুরী বলেন, নব্য জেএমপির কয়েকজনকে বোমা তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার জন্য শনাক্ত করা হয়েছে।
তাদের সবাই যে কারিগর তা নয়। কেউ কেমিক্যাল সংগ্রহ করে, কেউ ল্যাব স্থাপন করে, আবার কেউ শুধু তৈরি করে। শনাক্ত হওয়া কারিগররা আইনের আওতায় এলে পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানা যাবে।
