ব্যাংকের নিরাপদ চাকরি ছেড়ে অভিনয়ে পা রেখেছিলেন ‘গজনি’ খ্যাত প্রদীপ রাওয়াত

শোবিজ ডেস্ক

আমির খানের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‌‘গজনি’-র সেই নির্মম ও ভীতিপ্রদ খলনায়ক হিসেবে যিনি কোটি দর্শকের হৃদয়ে খোদাই হয়ে ছিলেন, সেই প্রবীণ ভারতীয় অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আনুমানিক বিকেল ৬টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

ভারতের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে প্রায় সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজের অনন্য অভিনয়ক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

পর্দায় তার খলনায়ক বা কঠোর চরিত্রগুলোর কারণে দর্শকের মনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও, অভিনয় কিন্তু প্রদীপ রাওয়াতের প্রথম পেশা ছিল না। গ্ল্যামার জগতে পা রাখার আগে তিনি একটি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক ভাস্কর’-এর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ব্যাংকের নিরাপদ ও বাঁধাধরা চাকরি ছেড়ে কেবল অভিনয়ের প্রতি অপার ভালোবাসা থেকেই তিনি সম্পূর্ণ নতুন এক অনিশ্চিত জগতে পা বাড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে বি আর চোপড়ার বিখ্যাত পৌরাণিক ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ দ্রোণপুত্র ‘অশ্বত্থামা’ চরিত্রে অভিনয় করে তার রুপালি জগতের পথচলা শুরু হয়। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে সম্প্রচারিত এই কালজয়ী ধারাবাহিকটি ভারতের ঘরে ঘরে প্রদীপ রাওয়াতকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তোলে।

মহাভারতের সাফল্যের পর প্রদীপ রাওয়াত আর পেছনে ফিরে তাকাননি। ধীরে ধীরে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অভিনেতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। তবে তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় মাইলফলক আসে ২০০৫ সালে তামিল চলচ্চিত্র ‘গজনি’-র মাধ্যমে, যেখানে তিনি প্রধান খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে দারুণ পরিচিতি লাভ করেন। চরিত্রটি এতটাই সাড়া ফেলেছিল যে, ২০০৮ সালে তৈরি একই নামের হিন্দি রিমেকেও আমির খানের বিপরীতে তাকেই মূল খলনায়ক চরিত্রে নেওয়া হয়। এর আগে ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক মহাকাব্যিক সিনেমা ‘লাগান’-এও আমির খানের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছিলেন তিনি।

প্রদীপের ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল প্রখ্যাত পরিচালক এস এস রাজামৌলি পরিচালিত ২০০৪ সালের সিনেমা ‘সাই’। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তার শক্তিশালী অভিষেক ঘটে। এরপর তিনি কেবল হিন্দিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তেলেগু, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম চলচ্চিত্রে খলনায়ক হিসেবে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ‘সরফরোশ’, ‘দ্য হিরো: লাভ স্টোরি অব আ স্পাই’, ‘স্ট্যালিন’, ‘বীরম’, ‘১: নেনোক্কাদিনে’, ‘লৌকিয়াম’, ‘নেনু শৈলজা’, ‘সাররাইনডু’, ‘নেনে রাজু নেনে মন্ত্রী’, ‘আয়ি রাথিল ইরুভার’, ‘মার্কেট রাজা এমবিবিএস’ এবং ‘মিস ম্যাচ’-এর মতো একাধিক বহুল চর্চিত চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেন।

ক্যানসার আক্রান্ত প্রদীপ রাওয়াতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্রায় ১০ দিন আগে তাকে ভিওয়ান্দির একটি ক্যানসার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী।

মৃত্যুকালে তিনি তার স্ত্রী ও এক ছেলেকে রেখে গেছেন। ব্যাংকের চার দেয়াল থেকে শুরু করে রুপালি পর্দার অপ্রতিদ্বন্দ্বী খলনায়ক হয়ে ওঠার এই বর্ণিল যাত্রার সমাপ্তিতে পুরো ভারতীয় বিনোদনজগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights