ব্রাজিল ভক্তদের জন্য চমক

অনলাইন ডেস্ক

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেই অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক পথচলাকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে এবার হাজির হচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স। ফুটবল কিংবদন্তি পেলের সেই অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ জয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে নতুন অরিজিনাল সিরিজ ‘ব্রাজিল ’৭০: দ্য থার্ড স্টার’। আর এই সিরিজটির নেপথ্যে রয়েছেন ব্রাজিলের খ্যাতনামা বাবা-ছেলে পরিচালক জুটি পাওলো মোরেলি এবং পেদ্রো মোরেলি। সম্প্রতি ‘ডেডলাইন’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তাঁরা এই সিরিজটি নির্মাণের পেছনের নানা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের কথা ভাগ করে নিয়েছেন।

১৯৭০ সালের ফুটবল ম্যাচগুলোর ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বেশ দূর থেকে, যার কারণে তখনকার ফুটেজগুলো ছিল বেশ ঝাপসা এবং লো-ডেফিনিশনের। দর্শকদের সেই পুরোনো আমেজ থেকে বের করে মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের একেবারে কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার এক অভিনব প্রয়াস চালিয়েছেন এই দুই পরিচালক। ও২ ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এই সিরিজে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা এবং তাদের আবেগকে খুব কাছ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। পরিচালকদের লক্ষ্য ছিল, পেলে যখন মাঠে বল পাসের জন্য অপেক্ষা করছেন, দর্শক যেন ঠিক তার পাশেই দাঁড়িয়ে তার মনের ভেতরের চাপ আর উত্তেজনা টের পান।

ঐতিহাসিক এই ড্রামা সিরিজটিতে পেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন একদমই নতুন মুখ লুকাস আগ্রিকোলা, যিনি দেখতে হুবহু তরুণ পেলের মতো এবং বাস্তব জীবনে ভালো ফুটবলও খেলেন। তবে অভিনয়ে প্রথম হওয়ায় তাঁকে মাসের পর মাস কঠোর প্রশিক্ষণ ও কোচের অধীনে কাজ করতে হয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিলের বিখ্যাত অভিনেতা রদ্রিগো সান্তোরো এবং ব্রুনো মাজ্জেও অভিনয় করেছেন তৎকালীন কোচ জোয়াও সালদানহা ও জাগালোর ভূমিকায়। ঐতিহাসিক সত্যতা বজায় রাখার পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের ভেতরের নানা অজানা কথোপকথন কল্পনার আশ্রয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই সিরিজে, যার জন্য ব্যবহার করতে হয়েছে প্রায় তেরোশো ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (ভিএফএক্স) শট।

সিরিজটির গল্পে শুধু ফুটবল নয় বরং তৎকালীন ব্রাজিলের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটও উঠে এসেছে। পরিচালকরা জানান, সত্তরের দশকে ব্রাজিল যখন সামরিক একনায়কতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছিল। কিন্তু পেলের হাত ধরে ব্রাজিলের তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় পুরো জাতির মনে আবার নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। জার্সিতে যুক্ত হয় তৃতীয় তারকা, যা এই সিরিজের নামকরণের মূল অনুপ্রেরণা।

২৯ মে নেটফ্লিক্সে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত সিরিজটি। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে এটি মুক্তি পাওয়ায় পরিচালকদের আশা, বর্তমান ব্রাজিল দল এই সিরিজটি দেখে অনুপ্রাণিত হবে। আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে, আর তার আগেই পেলের এই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights