ব্রোকারেজের জালিয়াতির টাকা ফেরত পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
আলী রিয়াজ
ব্রোকারেজ হাউসের প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের কারণে বঞ্চিত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। খেলাপি হয়ে পড়া পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। দাবির বিপরীতে একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাবেন। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ অর্থ বিতরণ শুরুর কথা রয়েছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, প্রতারক পাঁচ ব্রোকারেজ হাউস হলো-মশিউর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাঙ্কো সিকিউরিটিজ ও শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাঁচ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতির পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে ডিএসই।
১৭ হাজার বিনিয়োগকারী পুরো পাওনা পাবেন : ডিএসই জানিয়েছে, ওই পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের দাবির পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জনের পাওনা ৫ লাখ টাকা বা তার কম। ফলে আইপিএফের নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাঁরা পুরো পাওনা পাবেন। এই ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীর জন্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার করে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা আইপিএফ থেকে দেওয়া হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সবাই এখনই পুরো টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। ৫৯৩ জন বিনিয়োগকারীর দাবি ৫ লাখ টাকার বেশি হওয়ায় আইপিএফের নির্ধারিত সীমার কারণে তাঁদের সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তাঁদের বাকি অর্থ আদায়ের জন্য খেলাপি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ এবং ভবিষ্যতে আইপিএফে জমা হওয়া অর্থ ব্যবহার করার কথা জানিয়েছে ডিএসই।
প্রতারণার পর প্রতারণা : ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নতুন নয়। তামহা সিকিউরিটিজ, বাঙ্কো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানির বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো ডিএসইর ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড থেকে অর্থ দেওয়া শুরু হয়। সে সময় চার ব্রোকারেজ হাউসের ৮ হাজার ৫৮১ জন বিনিয়োগকারীর জন্য প্রথম ধাপে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তাঁদের মোট দাবির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা। ফলে প্রথম দফায় বিনিয়োগকারীদের পুরো ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতির বিপরীতে আনুপাতিক হারে অর্থ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ তখন যে তহবিলকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের শেষ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, এবার সেই তহবিল থেকেই অপেক্ষাকৃত বড় পরিসরে অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, সব বিনিয়োগকারীর ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সম্পূর্ণভাবে আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে। আগামী ২৮ তারিখ থেকে কার্যক্রম শুরু হবে। এর মধ্যে পাঁচটি বোকারেজ হাউসের যত বিনিয়োগকারী আছেন তাদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ পরিশোধিত হবে। বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠান ও ডিএসইতে থাকা তাদের শেয়ার বিক্রি এবং পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেবে। এমনকি প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আইপিএফে জমা হওয়া অর্থ থেকেও ওই ৫৯৩ জন বিনিয়োগকারীর পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।
