ভবিষ্যৎ ভূমিকম্প পূর্বাভাসে নতুন আশার খবর বিজ্ঞানীদের

অনলাইন ডেস্ক

সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা বিশেষ কিছু অঞ্চল ভূমিকম্পের বিস্তার থামিয়ে দিতে পারে। এমনটাই উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা এসব এলাকাকে ‘ব্রেক জোন’ নামে অভিহিত করেছেন যা প্রাকৃতিক বাধার মতো কাজ করে ভূকম্পনের গতি থামিয়ে দেয়।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে। দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছিল, কিছু ভূমিকম্প নির্দিষ্ট জায়গায় এসে থেমে যায়। কিন্তু কেন এমন ঘটে, সেই রহস্য এতদিন অজানা ছিল। গবেষণার প্রধান লেখক, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক জিয়ানহুয়া গং বলেন, বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই এই ধরনের বাধা সম্পর্কে জানতেন, কিন্তু এর গঠন ও কার্যপ্রণালী স্পষ্ট ছিল না।

গবেষকরা প্রশান্ত মহাসাগরের গফার ফল্ট নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। ইকুয়েডর থেকে প্রায় এক হাজার মাইল দূরে অবস্থিত এই সমুদ্রতল ফাটল এলাকায় গত ৩০ বছরে নিয়মিত ভূমিকম্প ঘটেছে। প্রতি পাঁচ থেকে ছয় বছর পরপর প্রায় ৬ মাত্রার ভূমিকম্প একই স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

২০০৮ এবং ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের দুটি বড় সমুদ্রতল গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বড় ভূমিকম্পের আগে এসব ব্রেক জোনে প্রচুর ছোট ছোট কম্পন বা ট্রেমর হয়। কিন্তু বড় ভূমিকম্পের পর অঞ্চলটি দ্রুত শান্ত হয়ে যায়।

তারা জানান, এই অঞ্চলগুলো শক্ত পাথরের দেয়াল নয়। বরং অনেক শাখা-প্রশাখা ও ফাঁকবিশিষ্ট জটিল গঠন, যেখানে সমুদ্রের পানি জমা থাকে। বড় ভূমিকম্পের সময় ছিদ্রময় পাথর শক্ত হয়ে গিয়ে কম্পনের অগ্রগতি আটকে দেয়।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের ব্রেক জোন পৃথিবীর বিভিন্ন মহাসাগরে থাকতে পারে। এগুলো ভালোভাবে বোঝা গেলে ভূমিকম্প কোথায় এবং কখন ঘটতে পারে, সে বিষয়ে পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করা সম্ভব। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের হেওয়ার্ড ফল্টের মতো কিছু বড় ফল্ট লাইনে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকায় এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights