ভাইকে হারিয়ে শিখেছি প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই বিএনপির সদস্য মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেছেন, ‘জুলাই আন্দোলন আমাদের জন্য একই সঙ্গে প্রাপ্তি এবং হারানোর। প্রাপ্তি বলছি কারণ, জুলাই আন্দোলন এ দেশের মানুষকে শিখিয়েছে কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয়। হারানোর জায়গা হচ্ছে-জুলাই আন্দোলনে আমি আমার ভাইকে হারিয়েছি। মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এই জুলাই অভ্যুত্থানেই শহীদ হয়েছেন।’ সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আক্ষেপ করে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, ‘জুলাই শহীদদের আকাক্সক্ষা, প্রত্যাশা ছিল সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র উপহার দেওয়া। সেই আকাক্সক্ষা আমরা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হতে দেখছি না। গত দুই বছর ধরে বিভিন্নভাবে আশ্বাস পেয়ে যাচ্ছি, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু আমরা সেই আশ্বাসের বিপরীতে বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দেখছি না।’

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন করবে এবং তাদের সত্যিকারের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, জুলাইয়ে প্রথমে সবাই আন্দোলনে এসেছিল কোটা সংস্কারের জন্য। যখন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিরীহ ছাত্রদের হত্যা করা হয়, তখন কিন্তু দেশের বেশির ভাগ মানুষ যাদের কোটার সঙ্গে সম্পর্ক নেই, যাঁরা হয়তোবা কখনো সরকারি চাকরিতে যুক্ত হবেন না, তাঁরাও আন্দোলনে অংশ নেন। একটা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিরীহ ছাত্রদের ওপর গুলি করে হত্যার কারণেই তাঁরা আন্দোলনে নামেন। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা ছিল-জুলাইয়ে যাদের হত্যা করা হয়েছে, সেই হত্যার বিচারটা হবে। প্রত্যাশা ছিল-যে রাষ্ট্র কাঠামোর কারণে হাসিনা হত্যাযজ্ঞ চালাতে পেরেছিলেন, সেই রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন হবে। সেই জায়গা থেকেই জুলাই আন্দোলন কোটা সংস্কার থেকে এক দফায় রূপ নেয়। আর এক দফার জন্যই এই গণ অভ্যুত্থান ঘটে। শহীদদের বড় আকাক্সক্ষা হচ্ছে রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন, যার জন্য এতজন মানুষের জীবন চলে গেছে।

মীর মাহবুব বলেন, ‘গণ অভ্যুত্থানে যাঁরা হতাহত হয়েছেন, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি গণহত্যার তদন্ত ও বিচার এখনো অধরা। আমাদের শহীদরা মুক্ত রাষ্ট্র কাঠামো চেয়েছেন। এই প্রত্যাশা পূরণের আশ্বাস আমরা পাচ্ছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।’

তিনি বলেন, একটা পক্ষ সব সময় চেষ্টা করে জুলাইকে খাটো করে দেখানোর বা জুলাইকে মুছে ফেলার। তারা জুলাইয়ের পরাজিত শক্তি, সেই স্বৈরাচার এবং স্বৈরাচারের দোসর। তারা সব সময় চেষ্টা করছে এই জুলাইকে আন্ডারমাইন করার জন্য। তবে বাংলাদেশের মানুষ জুলাইকে মনে-প্রাণে ধারণ করে। মানুষ দেখেছে একটা ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এই দেশের হাজারো নিরীহ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। যতই ষড়যন্ত্র হোক, যাঁরা জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, তাঁদের মন থেকে জুলাইকে মুছে ফেলা সম্ভব না।

মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণ অভ্যুত্থান অধিদপ্তর খোলা হয়েছে। জুলাই শহীদ এবং আহতদের দেখভাল করার জন্য এবং সেই অধিদপ্তরকে সরকার দায়িত্ব দিয়েছে। জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ইতোমধ্যে প্রতি মাসে একটা ভাতা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমান সরকার বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। শহীদ এবং আহতদের জন্য আইনটি সংসদে পাস হয়েছে। তাই আমার কাছে মনে হয়, যারা জুলাই শহীদ এবং আহত পরিবার রয়েছে, তাদের জন্য সরকার যথেষ্ট দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে।

মীর মাহবুব সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, শহীদদের যে পাওনা, তা আপনারা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করবেন। এটাই নতুন বাংলাদেশের আপনাদের কাছে চাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights