ভারতের ত্রিপুরায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, ইন্টারনেট বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার উনকোটি জেলায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মোসাব্বির আলী নামে এক ব্যক্তির কাছে পূজার চাঁদা দাবি করা নিয়ে বিরোধের জেরে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন। পুড়ে গেছে বেশ কয়েকটি ঘর ও দোকান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ইন্টারনেট সেবা বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ত্রিপুরার উনকোটি জেলার ফটিকরয় থানা এলাকার কুমারঘাটে স্থানীয় এক মেলার চাঁদা সংগ্রহ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি ঘর ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার রাত থেকেই ত্রিপুরা সরকার ওই এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ঘোষণা করে।

পুলিশ সূত্র জানায়, চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ একপর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাতে রূপ নেয়। এরপর অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিছু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কুমারঘাট মহকুমাজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত আটজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় টহল ও ফ্ল্যাগ মার্চ পরিচালনা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সাইদারপার গ্রামে কাঠবোঝাই একটি যানবাহন আটকে স্থানীয় একটি সম্প্রদায়িক মেলার জন্য চাঁদা দাবি করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং দ্রুতই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরবর্তীতে শিমুলতলা এলাকায় এক সম্প্রদায়ের একটি পরিবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপর সম্প্রদায়ের লোকজন জড়ো হয়ে কাঠের দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেয় এবং একটি উপাসনালয় ভাঙচুর করে। এর জেরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটে।

এদিকে পৃথক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পূজা ও মেলার চাঁদা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার অন্তত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসন্ন ভৈরব মেলা সামনে রেখে এই উত্তেজনা তৈরি হয়। আগামী ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি ঐতিহ্যবাহী ভৈরব মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কাঞ্চনবাড়ি প্রধান সড়কের ভৈরব থালির কাছে কাঠবোঝাই গাড়ির মালিক মোসাব্বির আলীর কাছে মেলা কমিটির সদস্যরা চাঁদা দাবি করলে শুরু হয় বিরোধ। কথাকাটাকাটি থেকে শুরু হয়ে একপর্যায়ে তা দ্রুত মারামারিতে এবং পরে ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নেয়।

পুলিশ জানায়, উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করে, যানবাহনে ভাঙচুর চালায় এবং বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন দেয়। কাঠের দোকান ও বাড়ির সামনে রাখা খড়ের গাদা পুড়ে যায়। একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আহত হন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)সহ বিপুল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ হালকা লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নজরদারিতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উনকোটি জেলাজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়।

ইন্ডিয়া টুডে এনই-কে পুলিশ সুপার অভিনাশ রাই বলেন, কয়েকজন যুবক কিছু বাড়ির সামনে আগুন লাগিয়েছিল। আমরা দ্রুত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে এবং ফ্ল্যাগ মার্চ চলছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত ও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

পরবর্তীতে ত্রিপুরা পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়, ফটিকরয় এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং উসকানিমূলক কোনও তথ্য বা পোস্ট শেয়ার না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, আসন্ন ভৈরব মেলার আগে শান্তি বজায় রাখতে এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights