ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম: জলমগ্ন সড়ক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরে মুষলধারে বৃষ্টিতে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সোমবার সকালে দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, পথচারীসহ নগরবাসী। নগরের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যকেন্দ্র রিয়াজউদ্দিন বাজারেও পানি ঢুকে হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।

রবিবার রাত থেকে সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

সামান্য বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। এটি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এবারও রাতের ভারী বৃষ্টির পর সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

গতকালের বৃষ্টিতে নগরের রাহাত্তারপুল, বাকলিয়া, চকবাজার, নিউমার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, জিইসি, প্রবর্তকসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়।

bristi
বৃষ্টির পানিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি
পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয় পথচারীদের। নগরের আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারেও জলজট দেখা দেয়।

অফিসগামী মো. ফয়সাল বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখেন সড়কে পানি জমে আছে। পানি মাড়িয়েই তাঁকে অফিসে যেতে হয়েছে। সরকারের আন্তরিকতা থাকলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এক রাতের ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে রিয়াজউদ্দিন বাজারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজারের বিভিন্ন দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক রাতের পানিতে বাজারে কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে বাজারের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি তলিয়ে যায়। একই সময়ে জোয়ারের পানি থাকায় অনেক জায়গা থেকে পানি দ্রুত নামতে পারেনি। এতে দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে পড়ে।

ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, রাতের দিকে পানি বাড়তে শুরু করলে অনেকে দোকানের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেক দোকানের নিচতলার পণ্য সরানো সম্ভব হয়নি। কাপড়, জুতা, ব্যাগ, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। প্রতিবার বৃষ্টিতেই বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা আরও কার্যকর না করলে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বন্ধ হবে না। ভারী বৃষ্টির সময় দ্রুত পানি সরানোর জন্য বাজারকেন্দ্রিক বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights