ভেতরে ভেতরে ইরানে হামলার ছক করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র?
ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবার ভয়াবহ সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সীমিত আকারে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি স্বীকার করেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছেন। এর পরপরই সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জন কিরিয়াকো এক পডকাস্টে দাবি করেছেন, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যেই ইরান আক্রমণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, হামলার সময়সীমা নিয়ে জনসমক্ষে ভিন্ন কথা বলা হলেও ভেতরে ভেতরে যুদ্ধের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
মার্কিন এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বিপরীতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক সিরিজে বার্তায় তিনি মার্কিন সামরিক শক্তির দম্ভকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। খামেনিই বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতিনিয়ত বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বড়াই করেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো বিশ্বের শক্তিশালী বাহিনীও মাঝে মাঝে এমন প্রচণ্ড আঘাত পেতে পারে যা থেকে তারা আর কখনোই উঠে দাঁড়াতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি অত্যন্ত হুঁশিয়ারির সাথে বলেন, একটি যুদ্ধজাহাজ বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম হতে পারে, তবে সেই যুদ্ধজাহাজকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে যে অস্ত্র, সেটি আরও বেশি বিপজ্জনক।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে চেষ্টা আমেরিকা করে আসছে, তা ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে খামেনিই বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, ৪৭ বছরেও তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে নির্মূল করতে পারেনি। এটি আমেরিকার একটি বড় পরাজয়ের স্বীকারোক্তি। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনিও ইরানকে ধ্বংস করার এই মিশনে সফল হতে পারবেন না। অথচ বিস্ময়করভাবে এই সামরিক উত্তেজনার আবহেই চলতি মাসের শুরুতে জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হয়েছিল।
