মধুমাসের নানান ফলে ভরপুর রংপুর

নজরুল মৃধা, রংপুর

ষড়ঋতুর পথ পরিক্রমায় এখন চলছে গ্রীষ্মকাল। বৈশাখ জৈষ্ঠ এই দুই মাস গ্রীষ্মের বার্তা বহণ করে। এই চক্র পরিক্রমায় মধু মাস জ্যৈষ্ঠের যাত্রা শুরু হচ্ছ শুক্রবার। বছর ঘুরে আবার এলো মধুমাস। তাই এই মাসটি বাঙালির কাছে মধুমাস হিসেবেই পরিচিত। বাহারি ফলের সমারোহে এবং ফলের মৌ মৌ গন্ধ মনে করিয়ে দেয় ফলের নানান মাহাত্ম্যকে। তাই ফলকে বলা হয় মহান সৃষ্টিকর্তার নিয়ামক।

মধু মাসে রংপুরের বাজারে পাওয়া যাবে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, জামরুল, আনারস, কলা ছাড়াও এ মাসে মিলবে লটকন, পেয়ারা, বাঙ্গি ইত্যাদি। আম এবং লিচু ইতিমধ্যেই বাজারে চলে এসেছে। কিছুদিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে পাকা কাঁঠাল। এটি আমাদের জাতীয় ফল। জাম, জামরুল, পেয়ারা, আনারসও পাওয়া যাবে। কলার ফলনও এই সময় বেশি হয়। তবে এখানেই শেষ নয়, মাসের শেষ দিকে পাওয়া যাবে কামরাঙা, সফেদা, গাব, আমড়া ইত্যাদি।

রংপুর সিটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বিদেশি আপেল, আঙ্গুর, কমলার ভিড়ে স্থান করে নিয়েছে আম, লিচু ইত্যাদি। সিটি বাজারে প্রতিকেজি কাঁচা আম ৪০ টাকা কেজি, অন্য আম প্রকার ভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। লিচু একশ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। তরমুজ ৩৫ টাকা কেজি, পেয়ারা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, কাঁঠাল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, আনারস ৬০ টাকা কেজি, বেল প্রতিপিছ ৫০/৬০ টাকা, জামরুল ১২০ টাকা কেজি, সফেদা ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কাঁঠাল জাতীয় ফল হলেও এসময় আমের গুরুত্ব কম নয়। নানা জাতের আম এ দেশে পাওয়া যায়। দেশি আম টক-মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে। রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা, আম্রপলি, গোপাল ভোগ, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, রানীভোগ, ফজলিসহ নানা জাতের মিষ্টি স্বাদের আমের রসে সিক্ত হবে মুখ।

আম এই মাসের ফল হলেও ভাদ্র ও আশ্বিন মাসেও পাওয়া যায়। কিন্তু লিচু খুব স্বল্প সময়ের ফল। বাজারে এর স্থায়ীত্ব থাকে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ। দেশে সাধারণত চার প্রকার লিচু পাওয়া যায়। যেমন দেশি, বোম্বাই, চায়না এবং বেদানা জাতের। বেদানা জাতের লিচুর দাম সবচেয়ে বেশি। এই লিচু দিনাজপুর এলাকায় বেশি জন্মে। জামও স্বল্প সময়ের ফল। জাম কয়েক প্রকার- বড় জাম, ছোট জাম এবং ক্ষুদে জাম। ছোট জাতের জাম পাওয়া যায় ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও পাওয়া যায়।

প্রাকৃতিকভাবে গাছে পাকা ফল এখন বাজারে পাওয়া খুবই দুরহ। ফল আমাদের স্বাস্থের সহায়ক ও রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করলেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে বাজারে ফল বিক্রি করছে। যা জনস্বাস্থের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। তাই ফল কেনার আগে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। অপর দিকে স্থানীয় প্রশাসনকে অসাধু ফল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এই মধু মাস এক সময় বেদনার মাস হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights