মশার উৎপাত বিমানবন্দরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মশার কামড়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা যাত্রী, অপেক্ষারত স্বজন, দায়িত্বরত কর্মীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। সন্ধ্যা হলেই ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসে মশার দল। মশা তাড়াতে প্রধান ফটকে নিয়মিত আগুন জ্বালিয়ে ধূপের ধোঁয়া দিচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রধান ফটকে এ রকম আগুন জ্বালানো ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

তবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই সনাতন পদ্ধতিতে মশা তাড়ানোর বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। তাদের দাবি, যাত্রীদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক উপায়েও পুরোপুরি মশা তাড়াতে না পারায় সেসব উপায়ের পাশাপাশি সকাল-সন্ধ্যা ধূপের আগুন ও ধোঁয়া জ্বালানোর মতো সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা। অগ্নি দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ধূপের আগুন জ্বালানোর একটি ভিডিও এবং ছবি গত শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন শরীফুল হাসান নামে এক ব্যক্তি। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমনের এক নম্বর টার্মিনালের সামনে মশার কয়েল রাখার একটি পাত্রে আগুন জ্বলছে। সেটি দেখে বিস্মিত হচ্ছে শিশুসহ অন্য যাত্রীরা। ওই পোস্টে শরীফুল হাসান লেখেন, ‘আজ ভোরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ নম্বর গেট দিয়ে বেরোতেই দেখি এই আগুন জ্বলছে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এভাবে আগুন এবং ধোঁয়া দেখে বিস্মিত হলাম। গেটে দাঁড়িয়ে থাকা আনসার সদস্যদের জিজ্ঞেস করলাম, ভাই ঘটনা কী? জানালেন, মশা তাড়াতে এ ব্যবস্থা। উত্তর শুনে হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না। মশা তাড়াতে ধূপে আগুন গ্রামের এই সমাধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে? আচ্ছা উদ্যোগটা কার? এটা কি দেশে দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়? ভিডিওতে দেখবেন বিদেশ থেকে আসা এক শিশু বিস্মিত হয়ে এই আগুন দেখচ্ছে। আমার ধারণা সারা দুনিয়া বিস্মিত হবে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমি শুধু ভাবছি অবস্থা কতটা বেগতিক হলে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়? কিন্তু তাই বলে আগুন? হ্যাঁ, মশা তাড়ানোটা অবশ্যই জরুরি, তবে বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এভাবে আগুন এবং ধোঁয়া দিয়ে মশা তাড়ানো কতটা নিরাপদ? আর এ আগুন দেখে এত সংস্থা কীভাবে চোখ বুজে থাকল? কাদের এ কাজের ঠিকাদারি দেওয়া হয়েছে? কারা এগুলো দিয়ে যায়? আচ্ছা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কী হবে? আসলে বোধ হয় বাংলাদেশে সব সম্ভব!’

এ ব্যাপারে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিমানবন্দরে লার্ভার ঘনত্ব যাচাইয়ে সিডিসি জরিপ করে থাকে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিমানবন্দর এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হয়। নিয়মিত তদারকির কারণে বিমানবন্দরে মশার বংশ বিস্তারের সুযোগ নেই। কিন্তু বিমানবন্দরের বাইরের জলাশয় থেকে মশা উড়ে আসে। বিমানবন্দরের গেট তো সব সময়ই খোলা রাখতে হয়। সন্ধ্যার সময় উড়ন্ত এসব মশা তাড়াতে গেটের বাইরে ধূপ জ্বালানো হয়। ধূপের ধোঁয়া দিলে এসব উড়ন্ত মশা কিছুটা হলেও ঠেকানো যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights