মশার কাছে আত্মসমর্পণ!

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
বর্ধিত হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়তন। ২৭টি থেকে বেড়ে ওয়ার্ড হয়েছে ৪২টি। কিন্তু মশক নিধনের সক্ষমতা বাড়েনি নগরভবনের। মশক নিধনে যেখানে ন্যূনতম প্রয়োজন প্রায় ২০০ জনবল সেখানে আছে মাত্র দুজন ‘স্প্রে ম্যান’। সেই সঙ্গে প্রয়োজনের অর্ধেক বরাদ্দও পায় না করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ শাখা। নিয়মিত ওষুধ ছিটাতে না পারায় কমছে না মশার বংশবৃদ্ধি। ফলে মশা নিয়ন্ত্রণ দূরের কথা, অসহায়ভাবে মশার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে সিসিককে। এ বিষয়ে করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, একবার স্প্রে করলে মশার লার্ভা ৬০-৭০ ভাগ মারা যায়। মশক নিধনের সুফল পেতে হলে মাসে অন্তত দুবার স্প্রে করা প্রয়োজন। কিন্তু জনবল ও ওষুধ সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় মশক নিধনে করপোরেশনের উদ্যোগের পুরোপুরি সফলতা পাচ্ছে না নগরবাসী।

সিসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ শাখা স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মশক নিধনে প্রয়োজন মহানগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা ও ওষুধ ছিটানো। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল ও ওষুধের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। দিনমজুর দিয়ে একেকটি ওয়ার্ড করে ওষুধ ছিটাতে হচ্ছে। ওষুধ ছিটানোর পর ৪-৫ দিন মানুষ স্বস্তিতে থাকলেও ফের মশার উপদ্রব শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মশক নিধনে সিসিকের কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা নেই। কয়েক বছর আগে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে একটি পরিকল্পনা জমা দেওয়া হলেও সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মশক নিধনে প্রতিবছর ৭-১০ কোটি টাকার প্রয়োজন হলেও এর এক চতুর্থাংশও বরাদ্দ মিলে না। স্থায়ী জনবল না থাকায় কাজ চালাতে হয় দিনমজুর দিয়ে। গেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মশক নিধনের ওষুধ কিনতে এক টাকাও বরাদ্দ পায়নি স্বাস্থ্য বিভাগ।
সম্প্রতি নগরজুড়ে বেড়েছে মশার উপদ্রব। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। দিন-রাতে সমান তালে মশার কামড় সহ্য করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। ফলে দিনের বেলায়ও নগরবাসীকে ঘুমাতে হচ্ছে মশারি টানিয়ে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে আছেন শিক্ষার্থীরা। দিনের বেলায়ও অনেককে মশারির ভিতর বসে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। নগরীর মেন্দিবাগের বাসিন্দা জুনেদ আহমদ চৌধুরী জানান, মশার যন্ত্রণায় তার এলাকার মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে সিসিক ওই এলাকায় মশার ওষুধ ছিটায়নি। তাই মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে।

এদিকে, মশক নিধনে শিগগিরই অভিযান শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন করপোরেশনের ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘দুয়েকদিনের মধ্যে মশক নিধন অভিযান শুরু হবে। প্রথমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে ওষুধ ছিটানো হবে। ৪২ ওয়ার্ডে কার্যক্রম শেষ করতে প্রায় দেড় মাস সময় লাগবে। কিন্তু একসঙ্গে সব ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা না করলে পুরোপুরি সুফল পাওয়া যায় না। এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন মশক নিধনে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা যা এখন পর্যন্ত আমাদের নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights