মহাখালীতে পরিবহন কাউন্টার বন্ধের প্রতিবাদে বগুড়ায় বিক্ষোভ
বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রায় দুই মাস ধরে ঢাকার মহাখালীতে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের প্রধান কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে বগুড়া মহানগরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ করেন ওই পরিবহনে কর্মরত শ্রমিক, হেলপার ও ড্রাইভাররা।
শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে একতা পরিবহনের ঢাকা-বগুড়া-নওগাঁ রুটের ঠনঠনিয়া বাস টার্মিনালের টিকিট কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
এর আগে কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় ১ জুলাই বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের শ্রমিক-কর্মচারীরা। সংবাদ সম্মেলনে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মহাখালীর কাউন্টার খুলে না দিলে বগুড়া-নওগাঁ সড়কে চলাচলকারী সকল কোচ পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এদিন বেলা ১১টা থেকে ঠনঠনিয়া বাস টার্মিনালে জড়ো হতে থাকেন শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের শ্রমিক-কর্মচারীরা। প্রথমে তারা একতা পরিবহনের কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর সেখানে তারা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের শ্রমিকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মহাখালীতে কাউন্টারটি বন্ধ থাকায় উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর সাথে জড়িত শত শত শ্রমিক ও তাদের পরিবার কর্মসংস্থান হারিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। প্রশাসন ও মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে ঈদ-উল-আজহার ১৫ দিনের মধ্যে কাউন্টার খুলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তারা বলেন, আগে বন্ধ থাকা শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার খুলে দিতে হবে। এরপর বগুড়া একতা পরিবহনের কাউন্টার খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে একতা পরিবহন কর্তৃৃপক্ষের অভিযোগ ঢাকা-বগুড়া রুটের মহাখালী বাস টার্মিনালে বগুড়া থেকে একাধিক কোম্পানির বাস চলে। তা বন্ধ করে যেকোনো একটি কোম্পানি চলতে হবে। বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরের অনেক এলাকা থেকে একতা পরিবহনের টিকিট কেটে রাখা অনেক যাত্রীরা এসে কাউন্টার বন্ধ দেখে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সামছুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অতি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
