মহাসড়কে বেড়েছে প্রাণহানি
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীর মহাসড়কগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অসংখ্য প্রাণহানির পেছনে বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক এবং যানবাহনের ত্রুটিপূর্ণ (ফিটনেসহীন) প্রধানত দায়ী। বিশেষ করে ডাম্প ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং ওভারলোডিং জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ফলে উত্তেজিত জনতা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশে বলছে, রাজশাহীতে জাতীয় মহাসড়ক ৮৭ কিলোমিটার। আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪৪ এবং জেলা সড়ক ২৮৮ কিলোমিটার। এই সড়কগুলোতে গেল এক বছরে (২০২৫ থেকে চলতি বছরের ১০ জুন) জেলা ও মহানগর মিলে ১৬৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জেলায় ১৩৫টি এবং মহানগরে ৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হন ১৬০ জন। এ ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মামলা হয়েছে ১৬৯টি। দুর্ঘটনার অর্ধেকই মোটরসাইকেল-সংক্রান্ত। আর ৪০টি ঘটেছে ট্রাকের কারণে।
সবশেষ গতকাল সকাল ১০টার দিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার খাড়ইল এলাকায় যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রা ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের গেল ৫ মে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়ার বিড়ালদহ এলাকায় ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন এক দোকানি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুটি ট্রাকে আগুন দেন স্থানীয়রা। এর আগে ১ জানুয়ারি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই সড়কের ঝলমলিয়া বাজারে হঠাৎ ঢুকে পড়লে প্রাণ হারান চারজন। ওই মাসের ২৬ জানুয়ারি পোলাপুকুরে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত হন তিনজন।
রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে আছে ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল ও ওভারলোডিং ছাড়াও বেপরোয়া গতি। সংশ্লিষ্টদের মতে, যানবাহনের অত্যধিক গতি এবং চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোও এর জন্য দায়ী। এ ছাড়া আছে অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, সড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এ ছাড়া সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া চলাচলকেও দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পবা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, ডাম্প ট্রাকগুলো বেপরোয়া চলে। প্রত্যেকটা গাড়ি আমরা ভালোভাবে চেক করে মামলা দিই।
