মাগুরায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু
মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা জেলা কারাগারে থাকা আশরাফুল মোল্যা (৫০) নামে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদি চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। সে মাগুরা সদর উপজেলার নড়িহাটি গ্রামের বদরুদ্দিন মোল্যার ছেলে। শুক্রবার সকালে নামাজে জানাযা শেষে তাকে নড়িহাটি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আশরাফুল মোল্যার স্ত্রী হেলেনা বেগম জানান, ২০২০ সালের একটি চেক ডিজঅনারের মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষ্য ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মাগুরা জেলার বিজ্ঞ যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালতে আমার স্বামী আশরাফুল মোল্যার ১ বছরের কারাদণ্ড ৩ লাখ টাকা জরিমানা হয়। সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি মাগুরা জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। আমার স্বামী আশরাফুল মোল্যা অনেক আগে থেকেই শারীরিকভাবে নানা অসুখে ভুগছিলেন। কারাগারে যাবার পর গত ২৮ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে মাগুরার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ৪ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মারা যান। পরে খুলনা কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের কাছে আমার স্বামীর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মাগুরা জেলা কারাগারের জেলার নুর মোহাম্মদ মৃধা বলেন, সাজাপ্রাপ্ত হয়ে মাগুরা কারাগারে আসার পর থেকেই আশরাফুল মোল্যা প্রায়শ অসুস্থ থাকতেন। গত ৪ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মারা যান। সব আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আশরাফুল মোল্যার স্ত্রী হেলেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী মির্জাপুর গ্রামের বিলকিস নামে এক নারীর কাছ থেকে ব্যবসায়িক কাজে চড়া সুদে ৪০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। এ সময় তিনি তাকে স্থানীয় একটি ব্যাংকের ব্যক্তিগত একাউন্টের নিজ স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক দিয়েছিলেন। ধারের টাকা ৬০ হাজার টাকা শোধ করেছিলেন আমার স্বামী। কিন্তু বিলকিস বেগম সুদসহ আরো টাকা দাবি করেন। যা দিতে না পারায় এই চেক ডিজ অনারের মামলা হয়।
