মাছের রেণু উৎপাদনে অনন্য সাফল্য

সাইফুল ইসলাম, যশোর
গত এক বছরে ১০ হাজার কেজি রেণু উৎপাদন করেছেন আমিরুল। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নানা উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রয়োগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এবার সরকারিভাবে স্বর্ণপদক পেয়েছেন

যশোরের চাঁচড়ায় অবস্থিত ন্যাশনাল ফিশ হ্যাচারি। এটি গড়ে তুলেছেন আমিরুল হক। গত এক বছরে একাই ১০ হাজার কেজি রেণু উৎপাদন করে সবার নজর কেড়েছেন তিনি। ১০ হাজার কেজি রেণুর বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নানা উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রয়োগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এবার সরকারিভাবে স্বর্ণপদক পেয়েছেন। যশোর জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলার হ্যাচারিগুলোতে মোট ৪৭ হাজার ১৫৭ কেজি রেণু উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেলের মতো কার্পজাতীয় মাছের পাশাপাশি কই, শিং, টেংরা ও তেলাপিয়ার রেণুও রয়েছে। দেশে কার্পজাতীয় মাছের রেণুর মোট চাহিদার ৬০ ভাগই পূরণ হয় যশোর থেকে। এ খাতে বড় ভূমিকা রাখছে সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকার ৩৮টি হ্যাচারি। আমিরুল হকের হ্যাচারিতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ৬০ ভাগ আসে সৌরবিদ্যুৎ থেকে। রিসাইক্লিং পদ্ধতিতে পানি পুনর্ব্যবহার করে তিনি ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছেন। এ ছাড়া রেণু পরিবহনে নিজস্ব উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পরিবহনকালীন রেণুর মৃত্যুহারও প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে। যশোরের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, ‘গুণগত মানসম্পন্ন রেণু উৎপাদনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে আমিরুল হক বিদ্যুৎ খরচ অর্ধেকেরও বেশি কমিয়েছেন।’ এসব সাফল্যের কারণেই তাঁর নাম স্বর্ণপদকের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন চৌধুরী সুমন বলেন, ‘নতুন নতুন উদ্ভাবন প্রয়োগ করে ন্যাশনাল ফিশ হ্যাচারি মানসম্পন্ন রেণু উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে, যা অনুসরণ করছেন জেলার অন্য হ্যাচারি মালিকরাও।’

আমিরুল হক বলেন, ‘গুণগত মানসম্পন্ন রেণু উৎপাদনের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে নতুন নতুন উদ্ভাবন প্রয়োগ করে উৎপাদন খরচ কমাতে সক্ষম হয়েছি। আমার হ্যাচারিতে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের ৬০ ভাগই আসে সোলার প্যানেল থেকে, ভূগর্ভস্থ পানিও কম ব্যবহার করি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights