মায়ামির পর এবার আটালান্টা, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উন্মাদন

অনলাইন ডেস্ক

মায়ামির মতো বিশাল আয়োজন নেই আটালান্টায়। তবে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা যেন থেমে নেই। কোয়ার্টার ফাইনালে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে আটলান্টাতেও জমেছে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মিলনমেলা। পতাকা হাতে, গানে-স্লোগানে প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে জড়ো হয়েছেন হাজারো ভক্ত।

টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটলান্টার পিডমন্ট পার্কের অ্যাকটিভ ওভালে সোমবার বিকেলে প্রায় ৩ হাজার সমর্থক অংশ নেন ঐতিহ্যবাহী ফ্যান র‍্যালিতে। ম্যাচের আগের দিন এমন আয়োজন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে পরিচিত এক রীতি। সেখানে তারা একসঙ্গে গান গেয়েছেন, স্লোগান দিয়েছেন এবং দলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

উল্লাসে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডকে কটাক্ষ করেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া ব্রাজিলের উদ্দেশে তারা গেয়েছেন, ‘এক মিনিট নীরবতা…’। শেষ ষোলোকে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংলিশরা। সেমিফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে হ্যারি কেইনদের পেতে পারে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের উদ্দেশে সমর্থকেরা গেয়েছেন, ‘তোমাদের কতটা তিক্ত লাগছে, আমরা আরও কাছে চলে আসছি, আবার দেখা হওয়ার অপেক্ষা।’

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটলান্টায় সমর্থকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার অন্যতম কারণ ভৌগোলিক ও আর্থিক। মিয়ামির মতো আটলান্টায় বড় আর্জেন্টাইন কমিউনিটি নেই। মিয়ামিতে আর্জেন্টাইনদের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে, বুয়েনস এইরেস থেকে আটলান্টায় যাতায়াতের ফ্লাইটও ছিল কম এবং ব্যয়বহুল।

যারা আগের ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ছুটে বেড়িয়েছেন কানসাস সিটি, ডালাসের দুটি ম্যাচ এবং এরপর মায়ামি—তাদের জন্য আটলান্টা যাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়ের পর বিমানের টিকিটের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। ৪০০ ডলারের টিকিট কয়েক মিনিটের মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর সঙ্গে ম্যাচের টিকিট, থাকা ও যাতায়াতের খরচ যোগ হওয়ায় অনেকের জন্য যাত্রা হয়ে পড়ে কঠিন।

তাই অনেক সমর্থক বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন গাড়ি ভ্রমণ। কয়েকজন মিলে গাড়ি ভাড়া করে মায়ামি থেকে আটলান্টার উদ্দেশে রওনা হন মাঠে বসে আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখতে। প্রায় ১০ ঘণ্টার এই যাত্রায় ফ্লোরিডা ও জর্জিয়ার বড় অংশ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে আটলান্টায় সমর্থকের সংখ্যার মতো টিকিটের দামও কমেছে। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচের সবচেয়ে সস্তা (ক্যাটাগরি-৩) টিকিটের দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ ডলার। মিসরের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে প্রায় অর্ধেক দামে। ফিফার অফিশিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মসহ অন্যান্য মাধ্যমেও এখন টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights