মালদ্বীপকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

১১ সেকেন্ডে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর গোলে লিড উৎসব। ৩৪ মিনিটে উমেহলা মারমা স্কোর করেন দ্বিগুণ। এরপর কিছুটা সময় কেটেছে হাপিত্যেশে। সমতায় ফিরে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল মালদ্বীপ।

তবে দ্বীপরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে দেশকে আবারও এগিয়ে নেন সুরভী আকন্দ প্রীতি। যোগ করা সময়ে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন কোহাতি কিসকু। তাতেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক মিশনে যাত্রা শুভ করল কোচ পিটার বাটলারের দল। একই সঙ্গে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে মারিয়া মান্দাদের।

ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ‘বি’ গ্রুপের লড়াইয়ে নামে বাংলাদেশ। এইদিন ছিল মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ দিন। ঈদুল আজহার দিনে খেলতে নেমে ৪-২ ব্যবধানের জয় উপহার দেন মারিয়া মান্দারা। একই সঙ্গে মালদ্বীপের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল লাল-সবুজ দল।

বাংলাদেশের অধিনায়ক মারিয়া অবশ্য ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফে শুভ সূচনার মাধ্যমে দেশবাসীকে ঈদ আনন্দ উপহার দেবেন তারা। তবে মাটিতে পা রেখেছিলেন কোচ পিটার বাটলার। উচ্চবিলাসী না হয়ে খেলায় মনোযোগ দিতে বলেছিলেন দলকে। শেষ পর্যন্ত কোচ এবং অধিনায়কের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে।

রেফারির বাঁশির পর প্রথম আক্রমণেই গোল পেয়ে যায় বাংলাদেশ। কিক-অফের পর ঋতুপর্ণা চাকমার বাম দিক থেকে বাড়ানো নিচু ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মালদ্বীপের জালে বল জড়ান আনিকা। লাল-সবুজের জার্সিতে সুইডেনপ্রবাসী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের এটি প্রথম গোল।

৩৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রসে জোরালো শটে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান উমেহলা মারমা। একটু পর ডান দিক থেকে আফঈদা খাতুনের দূরপাল্লার শট ফিস্ট করে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বের করে দেন মালদ্বীপের গোলকিপার।

৪১তম মিনিটে হঠাৎ করেই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। এই গোলটি অনেকটা হাইলাইন ডিফেন্সের কারণেই হয়ে থাকে, তাছাড়া কিছুটা দায় আছে গোলকিপারেরও। সেসময় পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মিলি আক্তার। মারিয়ামের শট মিলির ওপর দিয়ে গিয়ে ক্রসবারের ভেতরের দিকে লেগে গোললাইনের ওপাশে পড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের দুর্বল ডিফেন্ডিংয়ের সুযোগ নিয়ে মালদ্বীপকে সমতায় ফেরান আমিনাত ফাজলা। তবে বেশিক্ষণ হতাশ হয়ে থাকতে হয়নি লাল-সবুজ দলকে। ৬৪ মিনিটে ঋতুপর্ণার নিখুঁত এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলে স্বস্তি এনে দেন বদলি হিসেবে নামা সুরভী আকন্দ প্রীতি। আর যোগ করা সময়ে মালদ্বীপের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন কোহাতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights