মুন্সীগঞ্জে ট্রলার চালক হত্যায় একজনের যাবজ্জীবন
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জে ট্রলার চালক আবু তালেবকে (৪০) হত্যার দায়ে আনিছ (২৫) নামে এক আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় অপর আসামি সেলিম মিয়াকে (৩৪) পেনাল কোডের ভিন্ন ধারায় ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার বিকেল ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক ড. মো. আলমগীর এ রায় দেন। এ সময় অপর আরও ছয়জন আসামিকে মামলার দায় হতে খালাস দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হাছান ছারওয়াদী।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি আনিছ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ গ্রামের হাসমত আলী বেপারীর ছেলে ও আসামি সেলিম মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার চিৎকার গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। রায় প্রচারের সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গজারিয়া উপজেলার গুচ্ছ গ্রামের আবু তালেব ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। ঘটনার আগে থেকে অভিযুক্ত আনিছ আবু তালেবকে বিভিন্ন জায়গায় মালামাল নিতে বলতো। আবু তালেব আনিছের কথায় কোথাও যেতে চাইত না।
গত ২০০৮ সালের ১৬ জুন সকাল ৮টায় আনিছ আবু তালেবের বাড়ি এসে মালামাল নেওয়ার কাজ আছে বলে চলে যায়। পরে দুপুর ২টায় আনিছ আবু তালেবকে ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদীতে যেতে বললে আবু তালেব ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদীতে যায়। পরে আবু তালেব বাড়িতে ফেরত না আসায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আনিছসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে গত ২০০৮ সালের ২০ জুন গজারিয়া থানায় আবু তালেবের স্ত্রী আয়েশা (২৮) বাদী হয়ে অপহরণের মামলা করে। পরে আবু তালেবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ আনিছকে গ্রেফতার করলে আনিছ আদালতে ঘটনার বিষয়ে ও জড়িত থাকা আসামিদের নামসহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামি আনিছের দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ আসামি সেলিমকে গ্রেফতার করলে সেলিম আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ১৬ বছরে মামলায় ৯ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
