মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচে ছিল না ‘হাইড্রেশন ব্রেক’, জানা গেল আসল কারণ
স্পোর্টস ডেস্ক
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও ইকুয়েডরের মধ্যকার হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচে দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। চলতি বিশ্বমঞ্চের তীব্র গরমের কারণে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই খেলোয়াড়দের শরীর সতেজ রাখতে এবং কোচের পরামর্শ নেওয়ার সুবিধার্থে রেফারিরা খেলা থামিয়ে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা ‘কুলিং ব্রেক’ দিচ্ছিলেন। তবে মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও সিউদাদ দে মেক্সিকো স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই টানা খেলানো হয় দুই দলকে।
আসরে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ কোনো ধরনের পানির বিরতি ছাড়াই সম্পূর্ণ শেষ হলো, যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে বেশ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচ চলাকালীন এই পরিকল্পনা পরিবর্তনের মূল কারণ ছিল আবহাওয়ার নাটকীয় মোড় এবং খেলার সময় পিছিয়ে যাওয়া। মেক্সিকো সিটির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে স্টেডিয়াম এলাকায় প্রবল বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হলে ফিফা প্রতিনিধি এবং সিভিল প্রটেকশন কর্তৃপক্ষ অফিশিয়াল লাইটনিং স্টর্ম সেফটি প্রোটোকল বা বজ্রপাত সতর্কবার্তা সচল করে। নিয়ম অনুযায়ী বজ্রপাতের ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে যাওয়ার জন্য টানা ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এই ঝড়ের কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ঠিক এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়।
খেলা দেরিতে শুরু হওয়ায় রাতের তাপমাত্রা অনেকটাই কমে আসে এবং তীব্র গরমের কোনো আভাস ছিল না। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়ায় মাঠের ফুটবলারদের অতিরিক্ত তাপজনিত শারীরিক ঝুঁকির কোনো আশঙ্কা ছিল না। আর এই কারণেই ম্যাচ রেফারি ও ফিফা অফিশিয়ালরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই অর্ধে প্রচলিত ২২ ও ৬৭ মিনিটের নিয়মিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বাতিল ঘোষণা করেন।
পানির এই বিরতি না থাকায় দুই দলের কোচরা ডাগআউটে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়দের চটজলদি কোনো কৌশলগত পরামর্শ দেওয়ার বাড়তি সুযোগ পাননি, যা ম্যাচের গতিকে আরও নিরবচ্ছিন্ন করে তুলেছিল।
