মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ড লড়াই জমজমাট

অনলাইন ডেস্ক

চলতি বিশ্বকাপ যেন রোমাঞ্চের চরম শিখরে পৌঁছে গেছে। ঝড়-বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার সব বাধা পেরিয়ে মাঠের খেলায় গত পরশু এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন এখন তাঁর দখলে। তবে মেসি যেখানে পথ দেখিয়েছেন, সেখানেই তাঁর পিছু নিয়েছেন বর্তমান ফুটবলের দুই তড়িৎ গতির তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ড। নিজেদের ম্যাচে এই তিন মহাতারকাই জোড়া গোল পাওয়ায় টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের লড়াইটা শুরুতেই জমে উঠেছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অতীতেও ফেনোমেনো রোনালদো, হ্যারি কেইন কিংবা গত আসরে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকারা এই অনন্য ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন। তবে ফুটবল ইতিহাসে সম্ভবত এর আগে কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যেখানে বিশ্বের সেরা সব আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা একই সাথে নিজেদের সেরা ছন্দে থেকে এই দৌড়ে শামিল হয়েছেন। যদিও ফুটবলাররা মুখে বলেন যে তারা ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়কেই প্রাধান্য দেন কিন্তু ভেতরের সত্যিটা হলো এই সোনালি বুটের মোহ কোনো স্ট্রাইকারই এড়াতে পারেন না।

বর্তমানে পাঁচটি গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চলতি আসরে আলবিসেলেস্তেদের দারুণ পারফরম্যান্স এবং মেসির অবিশ্বাস্য ফর্মই তাঁকে বাজির দরে সবার উপরে রেখেছে। তা ছাড়া বর্তমান কৌশলে মেসিকে রক্ষণভাগের বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না, ফলে নিজের পুরো শক্তি তিনি আক্রমণভাগেই ঢেলে দিতে পারছেন। দলের বাকি সদস্যরাও সুযোগ পেলেই বল মেসির পায়ে বাড়াচ্ছেন, যা তাঁর গোলের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে। অন্যদিকে মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড, এই দুই স্ট্রাইকারই ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে চারটি করে গোল করে ফেলেছেন।

গতি আর দক্ষতার দিক থেকে এমবাপ্পে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য এক মূর্তমান আতঙ্ক। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা মাত্র সাতাশ বছর বয়সেই মেসির সর্বকালের রেকর্ডের একদম কাছাকাছি চলে এসেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিশ্বকাপেই হয়তো তিনি মেসিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন। তবে বিশুদ্ধ গোল স্কোরার হিসেবে অনেকেই আর্লিং হালান্ডকে এগিয়ে রাখছেন। গোল করার ক্ষেত্রে নরওয়েজিয়ান এই তারকার রেকর্ড বরাবরই অবিশ্বাস্য। কিন্তু হালান্ডের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাঁর দল নরওয়ে। ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার মতো নরওয়ে হয়তো টুর্নামেন্টের খুব বেশি দূর যেতে পারবে না, আর তেমনটা হলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কম ম্যাচ খেলার কারণে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়তে পারেন এই তরুণ।

এই তিন মহাতারকার বাইরেও লড়াইয়ে আছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। গত মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কেইন নিজের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে ফর্মে থাকার জানান দিয়েছেন। থ্রি লায়ন্সরা যদি টুর্নামেন্টে ভালো করতে চায়, তবে কেইনের এই গোলের ধারা বজায় রাখা আবশ্যক। এর পাশাপাশি স্পেন ও জার্মানি দল যদি নকআউট পর্বে অনেক দূর এগিয়ে যায়, তবে স্পেনের মিকেল ওয়ারজাবাল কিংবা জার্মানির দেনিজ উনদাভের মতো নামগুলোকেও এই দৌড় থেকে একেবারে ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত কার পায়ে উঠবে এই কাঙ্ক্ষিত সোনালী বুট, তা দেখার জন্য আগামী মাসের ফাইনাল পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমীদের গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights