মোহামেডানের নির্বাচনে হঠাৎ উত্তাপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান ক্লাব দুর্দশায় বন্দি। শক্তিশালী কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত না হওয়ায় এ ক্লাবের ঐতিহ্য অনেকটা ম্লান হয়ে গছে। যে ক্লাবের শিরোপা জেতাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। তারাই এখন শিরোপার খরায় ভুগছে। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি বড় তিন খেলায় ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি। গতবার পেশাদার লিগ ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফুটবলে, তাও আবার ২৩ বছর পর। ভাবা যায় মোহামেডানের মতো দল ২৩ বছর শিরোপা বঞ্চিত থাকবে। ক্রিকেটে ২০০৯ সালের পর চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। হকিতে মাঝেমধ্যে আলোর ঝিলিক দেখায় এই যা। এক সময়ে দাবা, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, হ্যান্ডবলে নিয়মিত দল গড়ত। অর্থ সংকটে অনেক আগেই তা গড়া সম্ভব হচ্ছে না।

মোহামেডান সেই দল যাদের এক বছরে বিভিন্ন খেলায় ১৩টি ট্রফি জেতার রেকর্ড রয়েছে। কোটি কোটি সমর্থকদের ভালোবাসার দল মোহামেডান। মহান মুক্তিযুদ্ধেও বড় অবদান রেখেছে মোহামেডানই। সেই দলের কেন এত নাজুক অবস্থা। কেউ কেউ বলেন এভাবে চলতে থাকলে ওয়ান্ডারার্সের মতো অবস্থা হবে মোহামেডানের। অর্থ সংকটে শক্তিশালী দলও গড়তে পারছে না। দল গড়লেও খেলোয়াড়রা বকেয়া টাকা পকেটে তুলতে পারছেন না। প্রশ্ন হচ্ছে সমস্যাটা কোথায়? ঢাকা আবাহনীর যেমন শক্ত ম্যানেজমেন্ট রয়েছে। তেমনি আবার সেদিনে আসা বসুন্ধরা কিংসও যোগ্য ম্যানেজমেন্টের পরিচালনায় অল্পদিনেই ঈর্ষণীয় এক জায়গায় পৌঁছে গেছে। এমনকি অপরিচিত ক্লাব ফর্টিস এফসিও নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

মোহামেডান কেন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে সেটাই বড় প্রশ্ন। এক সময় বলা হতো বাংলাদেশের সব বিখ্যাত সংগঠকরা মোহামেডান ক্লাবের সঙ্গে জড়িত বলেই তাদের সাংগঠনিক ভিতের সামনে অন্যরা পিছিয়ে। সত্যি বলতে কি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে না বলে মোহামেডানে বেহাল দশা নেমে এসেছে। বেশ কয়েক বছর আগে ক্লাবের পরিচিত সংগঠক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার উদ্যোগে মোহামেডান লিমিটেডে রূপান্তরিত হয়। আশা ছিল এখান থেকেই ক্লাব নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। না, তা আর হয়নি, গ্রুপিং, কাদা ছোড়াছুড়ি একে অপরে দোষ চাপিয়ে অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

একটা কথা বলা হয় আওয়ামী লীগ সরকার কখনো চায় না মোহামেডান ওপরে উঠুক। তাই গত ১৬ বছরে নানা রকম ষড়যন্ত্র করে ক্লাবটিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। এ যুক্তিহীন কথা কেন যে বলা হয় তা বোঝা মুশকিল। এ কথা একেবারে ভিক্তিহীন। মানুষ কখন অন্যের ওপর দোষ চাপায় যখন নিজেরা কিছু করতে পারে না। মোহামেডানের অবস্থাও তাই। এত পরিচালক থাকতেও ক্লাব সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য নির্বাচন দিতে পারে না। বেশ কয়েক বছর আগে একটি নির্বাচন দিলেও তারপর আর দেখা নেই। মামলায় বন্দি ছিল।

কোর্ট রায় দিয়েছেন ৯ মার্চ মোহামেডানে সাধারণ সভা ও নির্বাচন দিতেই হবে। অনেক দিন পর ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে নির্বাচন হচ্ছে বলে মতিঝিলপাড়ায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। ১৭টি পদের জন্য ৩৫ জন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এর মধ্যে আবার কেউ কেউ একাধিক পদের জন্যই মনোনয়নপত্র কিনেছেন। ভোটে দাঁড়ানো গণতন্ত্রের অধিকার। কিন্তু যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে তাতে নির্বাচনে বিতর্কিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সভাপতি পদেই মনোনয়নপত্র কিনেছেন চারজন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপির প্রভাবশালী নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, দলের হকির সাবেক অধিনায়কএ.এ. সাজেদ ও শওকত আজিজ রাসেল সভাপতি প্রার্থী। শেষের তিনজন আবার পরিচালক পদেও মনোনয়নপত্র কিনেছেন। লোকমান হোসেন ভূঁইয়া পরিচালক পদের জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছেন।

কথা হচ্ছে ভোটে যারা জিতবেন তারাই ক্লাব পরিচালনা করবেন। এটাই তো স্বাভাবিক। পরিবেশ ও পরিস্থিতি যদি ঘোলাটে হয়ে ওঠে তাহলে কি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব? ক্লাবের বৃহত্তর স্বার্থে ও শক্তিশালী কমিটি গড়তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সমঝোতা ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। কোনো প্যানেল থাকবে না। এখন আবার আরেক প্যানেল গড়ার তৎপরতা চলছে। প্যানেলে নির্বাচিত হতে পারে। কিন্তু বহিরাগত লোকদের এনে ক্লাবের ভয়ংকর অবস্থা তৈরি করলে তাহলে কি সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। নাকি ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আরও রসাতলে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights