যমুনায় পানি বাড়তেই শহড়াবাড়ি স্পারে ভাঙন, নদী এগোচ্ছে বসতির দিকে

বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া

যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি এলাকায়। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় নির্মিত শহড়াবাড়ি স্পারের প্রায় ৬২ মিটার অংশ গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে নদী ধীরে ধীরে জনবসতির দিকে এগিয়ে আসায় আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন অনেক পরিবার।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ভাঙনে স্পারের প্রায় ৬২ মিটার অংশ বিলীন হয়েছে। এর আগে গত ২০ আগস্ট একই স্পারের অগ্রভাগের প্রায় ১০০ মিটার অংশ যমুনায় বিলীন হয়। এক মাসের ব্যবধানে আবারও ভাঙন শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক মাস ধরে প্রতিদিনই যমুনার পাড় ভেঙে পড়ার শব্দ শুনছেন তারা। কখনো অল্প অল্প করে, আবার কখনো হঠাৎ বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন ভাঙন বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় অনেকে ঘরবাড়ি খুলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে যমুনা নদীর পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ১৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে নদীতে স্রোতের তীব্রতাও বেড়েছে। প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে শহড়াবাড়ি স্পারে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙনে তাঁদের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, গাছপালা ও জীবিকার শেষ সম্বল হারাতে হয়। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বর্ষা এলেই নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়।

শহড়াবাড়ি স্পারে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভান্ডারবাড়িসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ভাঙন ঠেকানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মালেক বলেন, শহড়াবাড়ি স্পারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে দ্রুত ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights