যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ যেকোনো মুহূর্তে

প্রতিদিন ডেস্ক

ইরানে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থানগুলোতে বিমান ও নৌশক্তি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এসব অবস্থানে ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এডব্লিউএসিএস) বিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরব সাগরে আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ও যুক্ত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে হামলার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে হামলা শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দেওয়ামাত্র এ হামলা হবে। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, আলজাজিরা, এএফপি। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালাতে মধ্যপ্রাচ্যে এরই মধ্যে পর্যাপ্ত বিমান ও নৌশক্তি জড়ো করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ৫০টিরও বেশি অতিরিক্ত যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য পাল্টা হামলা এড়াতে পেন্টাগন ওই অঞ্চল থেকে কিছু কর্মকর্তা-কর্মীকে সরিয়ে নিচ্ছে। আরেক খবর অনুযায়ী, ইরানের ওপর ‘সপ্তাহান্তে’ই হামলা চালাতে পারে মার্কিন সেনাবাহিনী। তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো হামলা চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। অন্যদিকে প্রস্তুত ইরানও। রাশিয়ার সঙ্গে তারা ওমান সাগরে যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহি তৎপরতা সামরিক আগ্রাসনের যে ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, তা এ অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না যুক্তরাজ্য : মার্কিন বাহিনী যুক্তরাজ্যের বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালনোর যে পরিকল্পনা করেছিল, তাতে সায় দেয়নি যুক্তরাজ্য। এ বিষয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হামলার জন্য যুক্তরাজ্যের বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কারণ এতে আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘিত হবে। খবরে বলা হয়, এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলার জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে ব্রিটিশ বায়ুসেনা (রয়্যাল এয়ারফোর্স)-এর ঘাঁটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প।

‘লক্ষ্যভিত্তিক হামলায়’ সমর্থন সৌদি-আমিরাতের : ইরানকে চাপে রাখতে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু কর্মকর্তা সমর্থন দিতে পারেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত রক্তক্ষয়ী হবে এবং এতে আরও দেশ জড়িয়ে পড়ার ঝুুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন কূটনীতিকরা। ইরান নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক ইউরোপীয় কূটনীতিক জানান, শুরুতে অনেকে মনে করেছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক চাপ মূলত তেহরানকে আলোচনায় বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল।

কিন্তু গত মঙ্গলবার জেনেভায় সর্বশেষ বৈঠক শেষ হওয়ার পর কূটনীতিকদের ধারণা বদলেছে। তাদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারসহ নিজেদের ‘মূল অবস্থান’ থেকে ইরান সরে আসতে প্রস্তুত নয়। ওই কূটনীতিকের ভাষায়, ‘ইরানিরা প্রযুক্তিগত জটিলতায় আলোচনা ডুবিয়ে দিতে এবং মূল বিষয়গুলো বিলম্বিত করতে চাইছিল। প্রচলিত কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সংলাপকে এগিয়ে নেওয়া হতো, কিন্তু ট্রাম্পের সেই ধৈর্য নেই।’

ইউরোপীয় ওই কূটনীতিক সৌদি-আমিরাতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কিছু পক্ষ হয়তো ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা সমর্থন করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ রক্তক্ষয়ী হবে এবং ইচ্ছা করে বা ভুল হিসাবের কারণে আরও দেশ এতে জড়িয়ে পড়তে পারে।’

কূটনীতিকদের আশঙ্কা, চাপ প্রয়োগের কৌশল যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তার পরিণতি হতে পারে বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights