যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিধিনিষেধে উদ্বেগ বেইজিং
অনলাইন ডেস্ক
সম্প্রীতি চীনের ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য বিধিনিষেধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং। স্থানীয় সময়(৩০ জুলাই) বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে এক ভিডিও কলে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বেইজিংয়ে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যকার বৈঠকের সমঝোতা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় পক্ষ ‘খোলামেলা, গভীর ও গঠনমূলক আলোচনা; করেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, তারা স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা, বাস্তবসম্মত সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং পরবর্তী পর্যায়ে একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে সমাধানের বিষয়েও আলোচনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় সম্প্রতি চীনা আমদানির ওপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ভিডিও কলে উভয় পক্ষ যোগাযোগ জোরদার, পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা, সন্দেহ দূর করা এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চীন-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য বিষয়ক পরামর্শ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছে।
এছাড়াও ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্থিতিশীল ও ইতিবাচক বিকাশ ত্বরান্বিত করতে এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতাভিত্তিক একটি গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনার ঠিক আগেই এই আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি বলেছেন, মার্কিন নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ সত্ত্বেও এই শীর্ষ বৈঠকটি যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ট্রাম্প ও শির মধ্যে মে মাসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর একটি সমঝোতা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী বেইজিং ‘রেয়ার আর্থ’ (বিরল মৃত্তিকা) উপাদান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের সরবরাহ শৃঙ্খলে ঘাটতি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে সম্মত হয়েছিল।
এই সমঝোতার আওতায় চীনকে ওইসব উপাদান উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির বিক্রয়ের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের বিষয়গুলোও সুরাহা করতে হবে। এছাড়া বেইজিং আগের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর অন্তত ১৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
