যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এখনো অনাস্থা ইরানের!

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পুরোনো গভীর অবিশ্বাস এখনো আছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা হলে সংলাপ সম্ভব। কিন্তু কোনো চাপের কাছে ইরান নত হবে না বলেও জানান তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক পোস্টের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া সেই পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের মধ্যে ‘গভীর ঐতিহাসিক অবিশ্বাস’ এখনো বিদ্যমান। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘অঙ্গীকার রক্ষা করা অর্থবহ সংলাপের ভিত্তি হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অতীত আচরণ ও কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের ‘অগঠনমূলক ও পরস্পরবিরোধী’ অবস্থানও একটি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের আত্মসমর্পণ চায়। ইরানের আত্মসমর্পণের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইরানের জনগণ কোনো ধরনের চাপ বা জবরদস্তির কাছে নত হবে না।’

এদিকে ওমান উপসাগরে একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের গুলি চালানোর ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার এ ঘটনা ঘটে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।

ইরানের অভিযোগ, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার তাদের জাহাজে গুলি চালিয়েছে। হামলার সময় ইরানি পতাকাবাহী জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, সতর্কতা উপেক্ষা করায় বাধ্য হয়েই তারা ব্যবস্থা নিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার খাতাম আল-আম্বিয়ার এক মুখপাত্র বলেন, আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই সশস্ত্র জলদস্যুতা ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে জবাব দেবে। খুব শিগগিরই প্রতিশোধ নেওয়া হবে।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানি জাহাজটি থামার নির্দেশ অমান্য করেছিল। ফলে মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স জাহাজটির ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যাতে সেটি থেমে যায়। মার্কিন পক্ষের দাবি, বর্তমানে জাহাজটি তাদের মেরিন সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জাহাজে কী ধরনের মালামাল ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights