যে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড কখনো মুছতে পারবেন না রোনালদো

অনলাইন ডেস্ক

মাঠজুড়ে তখন স্প্যানিশ ফুটবলারদের উল্লাস, আর তার ঠিক বিপরীতে মাঝমাঠে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন ৪১ বছর বয়সী এক মহাতারকা। চোখে জল কিংবা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নেই, কেবলই এক শূন্য দৃষ্টি। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে পর্তুগালের বিদায়ের পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়টি শেষ হলো চরম হতাশা আর স্তব্ধতায়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করা এই পর্তুগিজ আইকনকে ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসে এমন এক বিব্রতকর রেকর্ডের মুখোমুখি হতে হলো, যা হয়তো তিনি কখনোই মনে রাখতে চাইবেন না।

আর্লিংটনের মাঠে পুরো ম্যাচ খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি রোনালদো। স্পেনের জমাট রক্ষণভাগের সামনে প্রথমার্ধ থেকেই খোলসবন্দী ছিলেন তিনি। পুরো ম্যাচে মাত্র দুবার প্রতিপক্ষের গোলমুখে শট নিতে পেরেছেন কিন্তু পজিশন তৈরি করার সেই চেনা ধার আজ আর দেখা যায়নি। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় পর্তুগালের বিদায়, আর সেই সাথে রোনালদোর নামের পাশে যুক্ত হয় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ইতিহাস। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ছিল রোনালদোর অষ্টম পরাজয়। এই হারের মাধ্যমে তিনি ম্যাথু লেকি, সন হিউং-মিন, আন্তোনিও কারবাহাল এবং হং মিউং-বোর সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হারার রেকর্ডে নাম লেখালেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অজস্র রেকর্ড আর ট্রফি নিজের করে নিলেও বিশ্বকাপ ট্রফিটা বরাবরই রোনালদোর কাছে অধরা থেকে গেল। টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নিজের অবিশ্বাস্য দীর্ঘায়ু ও ফিটনেসের প্রমাণ দিলেও শেষটা রাঙাতে পারলেন না সিআরসেভেন। ম্যাচ শেষে রোনালদোর এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন।

ফুটবলপ্রেমীদের মতে, একটি ম্যাচ বা কোনো একটি পরিসংখ্যান দিয়ে রোনালদোর মতো কিংবদন্তির ক্যারিয়ার পরিমাপ করা অসম্ভব। পর্তুগাল ফুটবলকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তা ফুটবলের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। হয়তো নিখুঁত বিদায় তিনি পেলেন না কিন্তু ফুটবল বিশ্ব তাকে মনে রাখবে এক অপরাজিত নায়ক হিসেবেই।

সূত্র: মার্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights