রংপুরে কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরের কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে সহজ শর্তে ঋণ, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, উন্নত সড়ক ও লজিস্টিকস সুবিধা এবং রপ্তানি বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা। গত রবিবার রংপুরের আরডিআরএস গেস্ট হাউজে বিডা, এডিবি ও সানেমের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিল্প জরিপ’ বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালায় এসব মতামত উঠে আসে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা রংপুরের কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণকে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন। আলু, ভুট্টা, আম, লিচু, তামাক ও ড্রাগন ফলের মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পার্বতীপুরে বেবি কর্ন ও গাইবান্ধায় আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণসহ রাইস ব্র্যান তেল উৎপাদনের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, শিল্প ও বিনিয়োগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি করা জরুরি। সানেমের প্রোগ্রাম পরিচালক জুবায়ের হোসেন জানান, জরিপে দেশি-বিদেশি ও যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং আঞ্চলিক বৈষম্যও বিশ্লেষণ করা হবে।

এডিবির অর্থনীতিবিদ তাসনিম আলম বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর নতুন বাস্তবতায় কৃষিনির্ভর অঞ্চলে প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকত আলী আলু ও ভুট্টার মূল্য সংযোজন এবং হিমাগারসংকট সমাধানের ওপর জোর দেন। বিডার নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগ সেবা এক প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে। শিল্প জরিপ আঞ্চলিক বিনিয়োগচিত্রও তুলে ধরবে।

ব্যবসায়ীরা সহজ ঋণপ্রাপ্তি, কম সুদহার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কনটেইনার ডিপো স্থাপনের দাবি জানান। রপ্তানি বহুমুখীকরণে আলু, পাটজাত পণ্য ও প্রক্রিয়াজাত ফল রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব আসে।

কর্মশালায় শতরঞ্জি, বেনারসি ও কুটিরশিল্পের সংকট ও সম্ভাবনাও আলোচিত হয়। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ ও রপ্তানি বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে এবং আঞ্চলিক বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। কর্মশালায় উত্তরাঞ্চলের বন্ধ চিনিকল ও বস্ত্রকল পুনরায় চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। ‘বাংলাদেশের শিল্প জরিপ’ এডিবির অর্থায়নে বিডার উদ্যোগে সানেমের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। আট বিভাগে কর্মশালার অংশ হিসেবে রংপুরে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights