রংপুরে ব্রি উদ্ভাবিত ধানে বাড়তি উৎপাদন ৬ লাখ মেট্রিক টন
নজরুল মৃধা, রংপুর:
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রংপুর অঞ্চলে ব্রি উদ্ভাবিত ধানের ফলন হয়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি। ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবিত হওয়ায় কৃষি জমি ক্রমাগত সংকোচিত হওয়া সত্ত্বেও এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য ফসল উৎপাদন থেমে নেই বরং প্রতি বছর বেড়ে চলেছে। আর এ অপার সাফল্যের পেছনে রয়েছে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি সম্প্রসারণবিদ ও কৃষকদের ঐকান্তিক এবং নিরলস প্রচেষ্টা। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত আগাম জাতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত ধান আবাদ হয়েছে। এতে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলার কৃষকরা বাড়তি ৬ লাখ মেট্রিক টন বাড়তি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
কৃষি ও ব্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় এধান আমন ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় সোয়া ৬ লাখ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদন হয়েছে। সাধারণত আমান ধান প্রতি হেক্টরে ৩ থেকে সাড়ে ৩ টন ফলন পাওয়া যায় এবং স্বর্ণা জাতীয় ধান সর্বোচ্চ ৪ টন পাওয়া যায। অপরদিকে ব্রি উদ্ভাবিত ব্রি ধান ১০৩, ৭৫, ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৯৩, ৯৪,৯৫ ও ব্রি হাইব্রিড ধানে ফলন পাওয়া গেছে ৬ থেকে সাড়ে ৬ মেটিক টন করে। সাধারণ আমনের চেয়ে ব্রি উদ্ভাবিত ধানের ফলন হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। সেই হিসেবে ৪০ শতাংশ ব্রি উদ্ভাবিত ধান কৃষকদের বাড়তি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬ লাখ মেট্রিন টন। এবছর গত বছরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়।
রংপুর ব্রি অফিস জানায়, পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলা করে ধানের ফলন বৃদ্ধিও মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টিকসই করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া কৃষি জমির পরিমান, জমির উর্বরতা, ভূগর্ভস্থ পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কৃষি শ্রমিক ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ধান উৎপাদনে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে উচ্চ ফলনশীল আধুনিক জাত ও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফলন বাড়ানো তথা নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ করা কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মিঠাপুকুর সহযোগীতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট আঞ্চলিক কার্যলয় রংপুর বলদি পুকুরের কৃষক মো. রুস্তম আলীর জমিতে ব্রি ধান ১০৩ জাতের ফসল কর্তন উৎসরের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের রংপুরের প্রধান ও প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো. রকিবুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রি গাজীপুর এর পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মোঃআব্দুল লতিফ, বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তররংপুরের উপপরিচালক মোঃ রিয়াজউদ্দিন, উপ পরিচালক ডিএই রংপুর অঞ্চল, রংপুরের মোঃআফজাল হোসেন, ড. মোঃআল আমিন তালুকদার, কৃষি তথ্য রংপুর অঞ্চল আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার মোঃ শাহাদৎ হোসেন প্রমুখ। উক্ত ফসল কর্তন উৎসবে প্রায় ২০০ শতাধিক কৃষক কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।
ব্রি গাজীপুর এর পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন, ব্রি ধান ১০৩ জাতের কান্ড শক্ত, সহজে হেলে পড়েনা এবং ধান পাকার পরও গাছ সবুজ থাকে। জাতটি কর্তণ করে বিঘা প্রতি (৩৩ শতাংশ) ২১ মন এবং প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৫ টন ফলন পাওয়া যায়। এই ধানের জীবনকাল ১৩০ দিন।
রংপুর ব্রি কার্যালয়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইনচার্জ রাকিবুল হাসান বলেন, এবার প্রাকৃতিক দুর্য়োগ না থাকায় আমনের ফলন ভাল হয়েছে। কৃষকরা ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধান প্রতি হেক্টরে ৬ থেকে সাড়ে ৬ মেট্রিক টন ফলন পেয়েছেন যা সাধারণ আমনের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
