রংপুরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বলিভিয়ার জাতীয় ফুল হেলিকোনিয়া

নজরুল মৃধা, রংপুর

হেলিকোনিয়া ফুলের মধু বিশ্বের ক্ষুদ্রতম পাখি হামিংবার্ডসহ অনেক পাখিরই প্রিয় খাদ্য। সুদূর আমেরিকায় জন্ম নেয়া ফুলটি বাংলাদেশের প্রকৃতি পরিবেশে গ্রীষ্ম ঋতুতে ফোটে এবং ফুল ফোটার ব্যাপ্তি পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে। এর উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Heliconia rostrata। বলিভিয়ার জাতীয় এই ফুলটির। তবে গ্রীষ্মের আনুষ্ঠানিকতা শুরু না হতেই রংপুর মহানগরের সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের বিপরীতে একটি বাড়ির সামনে এই ফুলটি এখন পথচারীদের নজর কেড়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে।

ফুলটি সম্পর্কে জানা গেছে, গন্ধহীন এ ফুলের মঞ্জরি বেশ লম্বা, নিচ দিকে ঝুলন্ত, উজ্জ্বল লাল রঙের। মঞ্জরিতে সুবিন্যস্তভাবে সাজানো থাকে। যেন ঝুলন্ত সাজানো মালা। ফুলটির ইংরেজি নাম Hanging Lobster Claw বাংলায় বলা যায় ঝুলন্ত চিংড়ি।

ফুল রঙে লাল, তবে অগ্রভাগ সবুজ। ফুটন্তফুল মনোমুগ্ধকর ও নজরকাড়া। দেখে আনন্দের ঢেউ জাগে প্রকৃতি প্রেমিদের মাঝে। ফুলের সৌন্দর্য বেশ অনেক দিন অটুট থাকে। গাছ ঝোপালোভাবে জন্মে। গাছের পাতা আকার-আকৃতিতে অনেকটা কলাগাছের মতো, লম্বা ডাঁটার অগ্রভাগে আয়তাকার ফলক, রং সবুজ, পুরু, মধ্যশিরা স্পষ্ট। গাছের উচ্চতা গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট হয়ে থাকে। কন্দজাতীয় এ ফুলের গাছ কন্দ চারার মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়ে থাকে। কোনো স্থানে চারাগাছ রোপণ করা হলে সেখানে দিন দিন গাছের পরিমাণ বাড়তে থাকে। হেলিকোনিয়া ফুলের চারা ইচ্ছেমতো সারি করে বা বিভিন্ন নকশায় রোপণ করা যায়। এতে বাগানের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

বাংলা একাডেমির সহপরিচালক এবং বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, পায়রাবন্দ, রংপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানান, আমাদের দেশের পারিবারিক বাগান, অফিস, পার্ক, উদ্যান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগানে, টবে, সীমানাপ্রাচীর ছাড়াও ছাদবাগানে হেলিকোনিয়া ফুল চোখে পড়ে। উঁচু ভূমি, রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশ ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে এ ফুল গাছ জন্মে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights