রফিক বাহিনীর তাণ্ডবে রক্তাক্ত রূপগঞ্জের নাওড়া গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
# ৮ জন গুলিবিদ্ধ, শিশু-নারীসহ আহত ১৩

# প্রকাশ্যে শর্টগান নিয়ে হামলা-গুলি

# জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে হামলা চালায় আন্ডা রফিক

# জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটও কারণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভয়ংকর রফিক বাহিনীর তাণ্ডবে রক্তাক্ত হয়েছে পুরো গ্রাম। সোমবার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামে দুই দফা ৫০ থেকে ৬০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী স্বশস্ত্র হামলা চালায়। এতে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শিশু-নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের বসতভিটা ও জমি দখলে বাধা দেওয়া এবং সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট করায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা বলেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিক ও তার ভাই মিজানুর রহমান ওরফে কুত্তা মিজানের উপস্থিতিতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কায়েতপাড়ার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মোতালেব ভূঁইয়ার বাড়িসহ আশেপাশের সাতটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে সন্ত্রাসীরা। এর আগে জমি দখল করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে অসংখ্যবার নিরীহ মানুষের ওপর হামলা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

হামলার খবর পেয়ে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগীরা জানান, সোমবার সকাল ১১টায় রফিকের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব ভূঁইয়ার বাড়িতে হাজির হয়। সন্ত্রাসীদের হাতে দেশি-বিদেশি পিস্তল, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ ধারালো অস্ত্র ছিল। অস্ত্রের মহড়া দেখে নারী ও শিশুরা ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। দুপুর ২টা পর্যন্ত সন্ত্রাসীরা সেখানে অবস্থান করে বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায়। এতে ব্যর্থ হয়ে বাড়ির সদস্য আলাউদ্দিন প্রধান (৫৫), আল-আমিন (২৮), তাজিল মিয়া (২৯) জাকির হোসেন (৫০) মোক্তার হোসেনসহ (৪৫) ৮ জনকে গুলি করে এবং লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। আহত অবস্থায় গ্রামবাসীরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে তাদের শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

মোতালেব হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত তাদের বাড়িতে দুই দফা সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। প্রথম দফায় দুইজন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের স্থানীয় রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এরপর আরেক দফা হামলা হয় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। এ সময় হামলায় আহত হয় আরও ৫ জন।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা হয় গুলিবিদ্ধ তাজেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আন্ডা রফিক আমাদের জমি দখল করতে চায়। কিন্তু আমরা জমি বিক্রি করতে চাই না। তাই আন্ডা রফিক ও তার ভাই মিজান বাহিনী নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে।’ তাজেল বলেন, আমাদের ওপর যখন ওরা হামলা করেছিল, তখনও ওদের সাথে পুলিশ ছিল। পুলিশের সামনেই ওরা আমাদের ওপর গুলি চালায়।

মারধরের শিকার বৃদ্ধা নারী নাসিমা খাতুন বলেন, আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। ঘরের মধ্যে যা কিছু ছিল সবকিছু নিয়ে গেছে। আমাদের নিজের বাড়িতে আমরা থাকতে পারিনা। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সশস্ত্র ক্যাডারদের ভয়ে পালিয়ে থাকি। ওরা আমার ছেলেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করল। প্রশাসনের লোকের সামনেই আমাদের ওপর গুলি বর্ষন করেছে। সন্ত্রাসীরা বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না। আমরা কার কাছে বিচার চাইবো? একথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই বৃদ্ধা।

নাওড়ার আবুল পাশার ছেলে জাগু মিয়াও গুলিতে আহত হয়েছেন জানিয়ে বলেন, আমার ছোট ভাই আলাদিনকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনা জেনে ইছাপুরা থেকে আমি বাড়িতে আসি। তখন আমার উপরেও হামলা করা হয়। আমিও ছররা গুলিবিদ্ধ হই। তিনি বলেন, পিস্তল, শর্টগান, রামদা, রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আন্ডা রফিক ও মিজানের নির্দেশে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। জমি লিখে না দেওয়ায় আমাদের জমি দখল করতে

…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights